নিয়ম ভাঙলেই শোকজের মুখোমুখি প্রার্থীরা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই একের পর এক আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন প্রার্থীরা। আর এসব রোধ করতে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটিও একের পর এক শোকজ দিচ্ছেন। কোথাও কোন ছাড় না দেয়ায় ইসির নিরপেক্ষতা আরও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। 

এখন পর্যন্ত শতাধিক প্রার্থীকে শোকজ করেছে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি ও নির্বাচন কমিশন। তাদের নিয়ম মেনে কারণ জানাতেও হয়েছে প্রার্থীদের।এমনকি তুমুল জনপ্রিয় প্রার্থীরাও ছাড় পাননি। এদের মধ্যে আছেন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম, চিত্রনায়িকা মাহিয়া থেকে শুরু করে অনেক প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিবিদও।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মানিকগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে শোকজ করেছে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির প্রধান মানিকগঞ্জের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ রেজমিন সুলতানা তাকে শোকজ করেন। 

এতে বলা হয়, আপনি সংসদীয় মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে সমাবেশের মাধ্যমে নৌকার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচনের তিন সপ্তাহ পূর্বে হওয়ায় তা নির্বাচন পূর্ব অনিয়ম হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

রাজশাহী-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শারমিন আক্তার নিপাকে (চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি) নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গের দায়ে শোকজ করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। মাহিকে পাঠানো এ সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়, গত ১৪ ডিসেম্বর আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোট চাচ্ছেন মাহি শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়। 

এছাড়া নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি জানতে পারে ওই দিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষারিয়াদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় প্রচার শুরু করেন এবং ভোটারদের কাছে ভোট চান। এ ব্যাপারে ব্যাখ্যাও দিতে বলা হয়েছে তাকে। 

শোকজ পাওয়া এসব প্রার্থীদের বিরুদ্ধে জনসভা, শোডাউন, সাংবাদিকদের হেনস্তা, অস্ত্রধারী ব্যক্তিকে নিয়ে শোডাউন, মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

ইসির এই অবস্থানের প্রশংসা করে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মো শাহনেওয়াজ বলেন, নির্বাচন সুস্ঠু করতে তাদের চেষ্টা দৃশ্যমান। এই যে আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে হেভিওয়েট প্রার্থীরাও শোকজ থেকে ছাড় পাচ্ছেন না, এটা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে সহায়ক হবে। তারা সঠিক পথে আছেন।