আবার আটকে গেলো সাদিক আবদুল্লাহর প্রার্থিতা

দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে যে জটিলতা বেধেছে তা কোনোভাবেই ছোটাতে পারছেন না সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর। এবার তিনি আটকে গেছেন চেম্বার জজ আদালতে।

সাদিকের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে প্রতীক বরাদ্দ দিতে সোমবার হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিলো, মঙ্গলবার সেই আদেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত।

এর ফলে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাদিক আবদুল্লাহর ভোটে লড়া প্রায় অসম্ভবই হয়ে উঠলো।

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে সাদিক। কিন্তু নৌকা প্রতীক না স্বতন্ত্র প্রার্থী হন বরিশালের এই সদ্য সাবেক মেয়র।

আর আসনটিতে নৌকার প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম।

রিটার্নিং কর্মকর্তা সাদিকের মনোনয়ন বৈধও করেন। কিন্তু জটিলতা বাধে পরে।

সাদিক আবদুল্লাহর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে ইসিতে আপিল করেন জাহিদ ফারুক। তার অভিযোগ, সাদিক আবদুল্লাহর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং হলফনামায় তিনি সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

এদিকে জাহিদ ফারুকেরও প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন সাদিক আবদুল্লাহ।

তবে শুনানি শেষে ১৫ ডিসেম্বর সিইসির নেতৃত্বে অন্যান্য কমিশনাররা সাদিক আবদুল্লাহর প্রার্থিতা বাতিল করে দেন। টিকে থাকে জাহিদ ফারুকের মনোনয়নপত্র।

সাদিক নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। সেখান প্রতীক বরাদ্দের দিন প্রার্থিতা ফিরে পান তিনি।

এরপর সাদিকের পক্ষে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন নৌকার জাহিদ ফারুক। তার আবেদন শুনানির পর্যায়ে সাদিকের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আদেশ স্থগিতের আদেশ দেন চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম।

গত জুনে অনুষ্ঠিত হওয়া বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হন সাদিক আব্দুল্লাহ। এর আগে নৌকার মনোনয়নে বরিশালের মেয়র হয়েছিলেন তিনিই।

সাদিকের বাবা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বরিশাল-১ আসনের দলীয় প্রার্থী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ।  

২০২৩ সালে বরিশালের সিটি নির্বাচনে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে সরিয়ে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় তার ছোট চাচা আবুল খায়ের আব্দুল্লাহকে (খোকন সেরনিয়াবাত)। তিনি নির্বাচিতও হয়েছেন।

এরপর চাচা-ভাতিজার দ্বন্দ্ব নিয়ে সারা দেশে আলোচনা তৈরি হয়। ওই সিটি নির্বাচনে বর্তমান এমপি জাহিদ ফারুকের অনুসারীরা সার্বক্ষণিক আবুল খায়ের আবদুল্লাহর পাশে ছিলেন।