ভোটে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই: সোহাগ

সুন্দরবনের কোলে শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ নিয়ে বাগেরহাট-৪ আসন। লবণাক্ততা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মাদক, ভাঙ্গাচোরা রাস্তাঘাট এসব নিয়ে এ আসনের ভোটারদের রয়েছে নানা অভিযোগ।

ঘূর্ণিঝড়েরর মতো দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির প্রশ্ন এলেই আসে শরণখোলা-মোরেলগঞ্জের নাম। উপকূলের এই দুই এলাকায় এখন ভোটের উত্তাপ। দিন রাত চলছে ভোটের প্রচার। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসনে নৌকার মাঝি হয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ।

বাগেরহাট-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আমিরুল আলম মিলন আবারও নৌকার মনোনয়ন পাবেন বলে জোর আলোচনা ছিলো। তবে সমানভাবে আলোচনায় ছিলেন নতুন মুখ বদিউজ্জামান সোহাগ। শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে নৌকা সামলানোর দায়িত্ব বর্তেছে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সোহাগের কাঁধে।

এলাকার রাজনীতি, নির্বাচনী প্রতিশ্রতিসহ নানা বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন একাত্তরের সঙ্গে।

একাত্তর: আপনার আসনে কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে বলে মনে করেন।

বদিউজ্জামান সোহাগ: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন। সকল প্রার্থী দিনরাত গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা জমজমাট হয়ে উঠেছে। আমরা আশা করছি, এখানে একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে। স্বতঃস্ফুর্তভাবে জনগণ ভোট কেন্দ্রে আসবে এবং তাদের মতামতের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।

একাত্তর: এ এলাকার মানুষ বলছে লবণাক্ত পানি বেকারত্ব, মাদক, ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট তাদের প্রধান সমস্যা। সেই সাথে রয়েছে দুর্যোগ।

বদিউজ্জামান সোহাগ: মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা সুন্দরবনের পাশে একটা দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। এখানে দীর্ঘসময় উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। কিন্তু বিগত ১৫ বছরে রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ ও শতভাগ বিদ্যুতায়নসহ এই এলাকায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এবার আমরা নির্বাচনে অগ্রাধিকার দিচ্ছি, কারিগরি শিক্ষা ও খেলাধুলার বিষয়টি। শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম হবে। তরুণরা যাতে কর্মমুখী শিক্ষা নিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে যাতে বেকারত্ব না থাকে, সে বিষয়গুলোকে আমরা সামনে নিয়ে আসছি।  আমাদের এখানে লবণ পানির প্রকোপ আছে, কিছুটা দুর্যোগপ্রবণ এলাকা, সেগুলো কীভাবে প্রটেক্ট করা যায়, সুন্দরবনের ইকোসিস্টেমকে রক্ষা করে কীভাবে ট্যুরিজমের প্রসার করা যায়, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে আমরা কাজ করবো। আমার এখানে সবচেয়ে বড় একটা নদী রয়েছে, পানঘুচি। এটির ভাঙ্গনরোধে ৮৫২ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান রয়েছে। পানঘুচি নদীতে একটা ব্রিজ একনেকে পাশ হয়েছে। বাকি কাজগুলো প্রক্রিয়াধীন। এগুলো এগিয়ে নিয়ে সুন্দরভাবে শেষ করার উদ্যোগ নেবো।

sohag

একাত্তর:তরুণ ভোটারদের জন্য আপনার প্রতিশ্রুতি কী?

বদিউজ্জামান সোহাগ: মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা সুন্দর একটা গ্রামীণ পরিবেশ। এখানকার অধিকাংশ মানুশের পেশা কৃষি ও মৎস শিকার। আমরা এখানকার পরিবেশ রক্ষা করে টেকসই উন্নয়নে উদ্যোগ নেবো। তরুণ প্রজন্মকে যে স্বপ্ন দেখিয়েছি, স্মার্ট বাংলাদেশের। আমরা সেটি বাস্তবায়নে কাজ করবো।

একাত্তর:আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের শঙ্কা রয়েছে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশে নিয়ে আপনি কী মনে করছেন?

বদিউজ্জামান সোহাগ: ইতিমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচন নিয়ে যে ধরনের সচেতনতা তৈরি করা হয়েছে, তাতে নিশ্চিত হয়েছি, শতভাগ নিরপেক্ষ এবং স্বতঃস্ফূর্ত ভোট হবে। সকল প্রার্থীদেরকে যেভাবে প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে, তাতে এখানে ভোটে কোনো ধরনের অনিয়ম হওয়ার সুযোগ আছে বলে মনে করি না। প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রার্থীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অতএব, কোনো ধরনের শঙ্কার অবকাশ আছে বলে আমি মনে করি না।

একাত্তর: নির্বাচনে আপনি জয়ের বিষয়ে কতটা আশাবাদী

বদিউজ্জামান সোহাগ: আমি আমার জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। কারণ ছাত্র রাজনীতি করার সময় থেকেই আমি এই এলাকায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে, সে কারণে এই এলাকার অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও আমার সম্পৃক্ত থাকার সুযোগ হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এই এলাকার মানুষ ব্যক্তি বদিউজ্জামান সোহাগের প্রতি নয়, তারা শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ। সেই কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে আগামী ৭ জানুয়ারি। সেটা হবে উৎসবমুখর পরিবেশে। আমাদের এলাকায় একটা ভোট উৎসব হবে, জনগণ স্বতঃস্ফুর্তভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করবে।

একাত্তর: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।