মাগুরা-১ আসনে এবার নৌকার প্রার্থী হয়েছেন বিশ্বসেরা ক্রিকেট অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর। ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাইফুজ্জামান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ছিলেন। তার বাবা মো. আছাদুজ্জামান মাগুরা-২ আসন থেকে চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে লড়াই করার জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরমও তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নৌকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্রিকেটার সাকিবকে। শুরু থেকেই শিখর বলেছেন, তিনি দলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে রয়েছেন।
সাবেক এই ছাত্রনেতা তার আসনের খুঁটিনাটি নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন একাত্তর টেলিভিশনের সঙ্গে। সামনের দিনগুলোতে কীভাবে রাজনীতির সঙ্গে থাকবেন তা নিয়েও নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
একাত্তর: মাগুরা-১ আসনে মানুষের সমস্যা কী? ভোটাররা বলছেন, উন্নয়ন হয়েছে অনেক। তবে তা চাহিদা অনুযায়ী হয়নি। কৃষিনির্ভর কলকারখানা হয়নি?
শিখর: গত পাঁচ বছরে আমরা মাগুরার মানুষ যা কল্পনা করিনি, তার চেয়েও অনেক বেশি উন্নয়ন হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে মাগুরার উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। সে দায়িত্ব থেকেই তিনি আমাদের মেডিকেল কলেজ দিয়েছেন, রেল লাইন দিয়েছেন, ১০০ শয্যার হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করেছেন, একটা আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম আমাদের আছে, শেখ কামাল আইটি পার্ক দিয়েছেন, গড়াই নদীর ওপর সেতু হচ্ছে। পল্লী অবকাঠামোর উন্নয়নের শেষ নাই। মাগুরার মানুষ সবচেয়ে বড় যে জিনিস পেয়েছে, সেটি হচ্ছে- নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এক সময় এই দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ চরমপন্থী রাজনীতিবিদদের হাতে জিম্মি ছিলো। আমরা দেখেছি, ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা প্রকাশ্যে দিবালোকে এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের ধরে নিয়ে গিয়ে মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়েছে। এমন কোনো থানা নাই, যার পাশে লুট হয় নাই। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, আমাদের সদিচ্ছায় আইনের শাসন কায়েম করেছি। মানুষকে ভালো রাখার চেষ্টা করেছি। আসলে এই দেশের মানুষ শত দিলেও সন্তুষ্ট হবে না। কৃষি প্রধান জেলা এটি। কৃষির উপর ভিত্তি করে কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান বামপন্থী রাজনীতিবিদরা দাবি করেন।
কৃষিনির্ভর শিল্প কারখানা বলতে কী বুঝায়! মাগুরায় দুটো জুট মিল আছে। একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি আছে, সেখানে প্রায় ১৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মাগুরায় টেক্সটাইল মিল বন্ধ ছিল, চালু করেছি। সারা বাংলাদেশে যে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে, সে ক্ষেত্রে মাগুরা অনেক এগিয়ে গেছে। বৈশ্বিক আর্থিক সমস্যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। সেটার কারণে অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজটায় ধীরগতিতে এগুচ্ছে। আমরা যেটা মনে করি, মাগুরার অর্থনৈতিক অঞ্চলটি প্রথম দিকেই আছে। জায়গা নির্বাচন হয়েছে, সবকিছু ঠিক। আর্থিক সঙ্কট কাটিয়ে উঠলেই প্রথম দিকে এই কাজটি হয়ে যাবে। এতে প্রায় ৫০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টি হবে। যদি এটা হয়ে যায়, তাহলে মাগুরার মানুষের আর কোনো চাহিদা থাকে না। এর মধ্যে পাইপ লাইনে আছ, যশোর থেকে ফরিদপুর পর্যকন্ত রাস্তা ৬ লেনের রাস্তা; সেটা কাটাখালি টু রামনগর আমরা বাইপাস করবো। পল্লী বিদ্যুৎ থেকে ইটখোলা পর্যলন্ত আরেকটি কাজ শুরু হয়েছে। মাগুরায় ৪ লেনের রাস্তা ইতিমধ্যে হয়েছে। প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ আছে।
মাগুরা জেলা প্রথম দুটি জেলার একটি, যেখানে শতভাগ গৃহহীন ও ভূমিহীন মুক্ত করা হয়েছে। এই জেলার সব গৃহহীন ও ভূমিহীনকে সেমিপাকার ঘরসহ বাড়ি করে দেওয়া হয়েছে। সমস্ত ইউনিয়ন থেকে গ্রামে যাওয়ার রাস্তা পাকা করা হয়েছে।
একাত্তর: এত উন্নয়নের পরও কেনো মনোনয়ন পেলেন না?
শিখর: এটা নির্ভর করে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডর ওপর। আমি আমার কাজটুকু করেছি। আমার ওপর যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, আমি সেটা পালন করেছি। মানুষকে ভালো রাখার চেষ্টা করেছি। মনোনয়ন বোর্ড হয়ত মনে করেছেন, আমাকে বাদ দিয়ে সাকিবকে দেবেন, তাই দিয়েছেন। এটা সমস্যা না। আমার যে কাজ, প্রধানমন্ত্রী পাঁচ বছর আগে আমার হাতে নৌকা তুলে দিয়েছেন, নৌকা আমার কাছে আমানত। আমি সেই নৌকাটি সাকিবের মাধ্যমে নেত্রীর কাছে উপহার দিতে চাই। এই দেওয়ার মধ্য দিয়ে মাগুরার মানুষের পাশে থাকার জন্য আমার যতখানি কর্তব্য আছে, আমি পালন করবো।
একাত্তর: অভিযোগ আছে, রাজনীতি আসলে রাজনীতিবিদদের হাতে থাকছে না। সাকিবের আসায় এ প্রশ্ন আছে। আপনার বক্তব কী?
শিখর: রাজনীতি আর নির্বাচন দুটো ভিন্ন জিনিস। রাজনীতি রাজনীতিবিদরাই করবেন। কিন্তু নির্বাচনে অনেক কৌশলগত কারণে বিভিন্ন জনকে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষকে একোমোডেট করতে হয়। হয়ত সেই কারণেই মাগুরা-১ আসনটিতে বেছে নিয়েছেন রাজনীতির বাইরের কাউকে। ও রাজনীতি করতে আসছে, ক্রিকেটে যেমন ভালো করেছে, রাজনীতির মাঠেও হয়ত করবে। সুযোগ তো সৃষ্টি করে দিতে হবে।
একাত্তর: আপনার পক্ষ থেকে শুভ কামনা নিশ্চয় থাকবে?
শিখর: সহযোগিতা থাকবে, শুভ কামনা থাকবে, সবই থাকবে।
একাত্তর: এই আসনটি নৌকার জন্য ধরে রাখতে পারবে কিনা?
শিখর: এই আসনটি জাতির পিতার হাতে গড়া মাগুরা আওয়ামী লীগ। উনি টুঙ্গিপাড়া থেকে বাইসাইকেলে করে মাগুরায় এসে আওয়ামী লীগ সৃষ্টি করে গেছেন। এটা আমার পূর্ববর্তী প্রজন্মরা ধরে রেখে গেছেন। আমি আশা করি, এই ১৫ বছর আমরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছি, এরমধ্যে এমন কোনো কাজ করিনি যে, মাগুরার মানুষ আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। আমরা মানুষকে ভালো রেখেছি। সূতরাং আমি বিশ্বাস করি, যতদিন এই পৃথিবী থাকবে, মাগুরার জনগণ আওয়ামী লীগের পাশে থাকবে।
একাত্তর: যেহেতু মনোনয়ন পেলেন না। আগামী ৫ বছর কী করবেন?
শিখর: পাঁচ বছর আমি রাজনীতিটাই করবো, মাগুরার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বা যদি সুযোগ হয় কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে, কাজ করবো। আপনি জানেন, একসময় আমি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ছিলাম। অত্যন্ত দুঃসময়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। সূতরাং রাজনীতির ভেতরেই থাকবো। প্রধানমন্ত্রী আমাকে যেখানে কাজে লাগাবেন, আমি সেখানে কাজ করতে প্রস্তুত।
একাত্তর: আপনাকে ধন্যবাদ