ভোটের প্রচারে নির্বাচনী আচরণবিধি মানছেন না বেশিরভাগ প্রার্থী। নিষেধাজ্ঞা থাকার অনেকেই ছেপেছেন রঙ্গিন পোষ্টার ব্যানার। তাও লাগাচ্ছেন যেখানে সেখানে। বিভিন্ন রকম যানবাহন নিয়ে করছেন শোভাযাত্রা।
শুধু তাই নয়, মানছেন না মাইক ব্যবহারের বিধিমালাও। এমন নানা অভিযোগে এখন পর্যন্ত আড়াইশ প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কমিশন।
নির্বাচনী আচরণবিধির অনুচ্ছেদ ৮৭ এ । প্রথম যে নিষেধাজ্ঞার কথাটি বলা আছে, তা হলো নির্বাচনী প্রচারে কোন রঙ্গিন পোস্টার লাগানো যাবে না। কিন্তু রাজধানীতে ছোট বড় সব প্রার্থীই এই কাজটি করছেন।
দেয়ালে পোস্টার লাগানো নিষেধ করা হলেও তা মানতে দেখা যায়নি কোন প্রার্থীকেই। বৈদ্যুতিক খুঁটিতে পোস্টার টানানো যাবে না। কোন যানবাহন বা নৌ পরিবহনেও পোস্টার লাগানো যাবে না।
কিন্তু নগরীতে প্রতিদিনই বাড়ছে পোষ্টার লাগানো যানবাহনের চলাচল। সড়ক কিংবা ফুটপাথ দখল করে করা হয়েছে নির্বাচনী ক্যাম্প। একটি এলাকায় তিনটির বেশি মাইক ব্যাবহার না করার নির্দেশনাও উপেক্ষিত।
প্রচারে বিভিন্ন যানবাহনের শোভাযাত্রাও নিষেধ। এমন নানা অনিয়মের কারণে এখন পর্যন্ত ২৫০ জন প্রার্থীকে আচরণবিধি লঙ্গণের অভিযোগে কারন দর্শানোর নির্দেশ নিয়েছে ইসি। মামলা হয়ছে তিন জনের বিরুদ্ধে।
তবে নির্বাচন বিশ্লেষক বদিউল আলম মজুমদারের মতে, বড় অনিয়ম পার পেয়ে যাওয়ায় ছোটখাটো এসব ইস্যুকে গুরুত্ব দিতে চান না প্রার্থীরা। ইসির ছাড় দেবার প্রবণতাও ভোটের পরিবেশে প্রভাব ফেলবে।
এদিকে, রাজধানীর মতো চট্টগ্রামে প্রার্থীদের জমজমাট প্রচারের পাশাপাশি আচরণবিধি লঙ্ঘন নিত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।
আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে নৌকার প্রার্থী এক এমপির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। তলব করা হয়েছে অনেকজনকে। শোকজ করা হয়েছে কয়েকজনকে।
বিশেষ করে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির বিচারিক কর্মকর্তাদের কাছে।