বিরোধী জোট নিয়ে যা বললেন নিক্সন-আজাদ

দ্বাদশ সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ নেয়া হলেও এবার  প্রধান বিরোধী দলের আসনে কারা বসতে যাচ্ছে সেটি এখনও পরিস্কার হয়নি। শপথ অনুষ্ঠান শেষে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভা শেষে এই বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রী এ সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রধানমন্ত্রী স্পিকারের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টানা চতুর্থবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। আর দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা এরিমধ্যে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। তবে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা কে হবেন, সে বিষয়ে কোন ফয়সালা হয়নি। এনিয়ে চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে এনিয়ে আলোচনার চলছে, চায়ের কাপে উঠেছে ঝড়।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পর বড় দল হিসাবে সবচেয়ে বেশি ১১ আসন পেয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। কিন্তু দলটির চেয়ে প্রায় ছয় গুণ বেশি ৬২টি আসন পেয়েছে ভোটের মাঠে শুরু থেকেই আলোচনার তুঙ্গে থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা । যাদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলীয় সভাপতির অনুমতি নিয়েই তারা ভোটের মাঠে লড়েছেন।

সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারি দলের পাশাপাশি সংসদে বিরোধী দলের ভুমিকাও প্রায় সমান। বিরোধী দলের নেতা পান রাষ্ট্রীয় সব সুযোগ সুবিধা। এবারের নির্বাচনে ২২২টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পর সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। প্রশ্ন উঠছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিরোধী দল গঠন করবে কিনা।

বুধবার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার আগে এই বিষয়ে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন চৌধুরী বলেন, এই সংসদে বিরোধী দল গঠনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মিলে জোট গঠন করতে পারে। এখনো বিরোধী দল গঠন হয় নাই। আমরা আজকে শপথ নেব। তারপর আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেব।

পরে শপথ নেয়ার পর নিক্সন চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আমরা দলের বিদ্রোহী প্রার্থী, বিরোধী দলের নেতা হওয়ার জন্য স্বতন্ত্র নির্বাচন করিনি। আমরা আমাদের নিজ এলাকার যে নৌকার মাঝি তার বিপক্ষে নির্বাচন করেছি। আমরা নৌকার পক্ষেই। আওয়ামী লীগের নৌকাটা তারা ঠিকই পাইছে, কিন্তু বৈঠাটা আমরা পাইছি।

তিনি আরও বলেন, যে উদ্দেশ্য ও স্বপ্ন নিয়ে জনগণ ভোট দেয়, সেই স্বপ্ন পূরণ করতে হবে। উন্নয়ন করতে হবে। কোনো নির্বাচিত সংসদ সদস্য যদি জনগণকে সময় না দেয় এবং যদি উন্নয়ন না করে, তাহলে কোন দিনই সে ভোট পাবে না। আমার তিন থানার মানুষ এটাই প্রমাণ করেছে। আমি দুবার স্বতন্ত্র নির্বাচন করে জিতেছি। আমার দায়িত্ব পালন করেছিলাম বলেই জনগণ এবারও আমাকে ভোট দিয়ে পাশ করিয়েছে। 

নিক্সন চৌধুরীর সূরেই কথা বলেছেন আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী একে আজাদ। সংসদে বিরোধী দলের বিষয়ে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সবাই একত্রে থাকব, এ রকম একটা প্রিলিমিনারি (প্রাথমিক) আলোচনা হয়েছে। সে রকম কংক্রিট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বুধবার সকালে সংসদে শপথ গ্রহণের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একে আজাদ আরও বলেন, সব কিছু নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর ওপর। যেহেতু আমরা বেশিরভাগ এসেছি আওয়ামী লীগ থেকে। সেক্ষেত্রে সবকিছু নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর ওপর।

৭ জানুয়ারি রোববার সারা দেশে একযোগে ২৯৯ আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২৯৮ আসনের ফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে ২৯৮ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২২২ আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠা লাভ করেছে। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ১১ এবং ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ ও কল্যাণ পার্টি একটি করে আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬২টি আসনে জয়লাভ করেছেন, তাদের ৫৯ জনই আওয়ামী লীগের নেতা।