শীর্ষ নেতার সমালোচনায় জাপার দুই জনকে অব্যাহতি

বহিষ্কার-পাল্টা বহিষ্কার, অব্যাহতি জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর সেই একই চিত্র চলছে সাবেক স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের দলে।

নির্বাচনে ভরাডুবির জন্য দলের চেয়ারম্যান ও মহাসচিবকে দায়ী করে বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দলীয় সকল পদ থেকে অব্যাহতি পেলেন জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম সেন্টু এবং সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী।

রোববার জাতীয় পার্টির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দুই নেতার সকল পদ ও পদবি থেকে অব্যাহতির খবর জানানো হয়।

শুক্রবার দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় সাবেক মন্ত্রী কাজী ফিরোজ রশীদ ও এরশাদের সাবেক প্রেস সচিব সুনীল শুভ রায়কে।

এর আগে রোববার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে নির্বাচনে অংশ নেওয়া জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের এক মতবিনিময় সভা হয়। সেখানে বক্তারা দলের নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে সমালোচনা করেন।

ওই সভায় শফিকুল ইসলাম সেন্টু দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে উদ্দেশ করে বলেন, জাপা মহাসচিব টাকা দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আমি তাকে বললাম যাই পান কিছু কিছু দেন। মহাসচিব বললেন, টাকা পেয়েছি, কিন্তু অল্প। উনি কী করলেন, চেয়ারম্যানের স্ত্রীর কাছে একটা অ্যামাউন্ট দিয়ে চলে গেলেন নির্বাচনী এলাকায়। কোনো প্রার্থীকে তিনি কিছু বলেননি। মহাসচিব বললেন, এটা শেরীফা কাদের দেখবেন।

তিনি বলেন, আপনারা সমঝোতা করলেন। সরকার ২৬টা সিট তুলে দিয়েছে। সরকার কোনো কৃপণতা করেনি আমার জানা মতে। সরকার সব কিছু আপনাদের ভরপুর দিয়েছে, কোনো কিছু বাকি রাখেনি। অর্থ দিয়েছে, সিটও দিয়েছে। সিট আপনারা ২৬টা আনছেন, এটা আপনাদের ব্যর্থতা। সরকারের কোনো ব্যর্থতা নেই। সরকার আপনাদের ভরপুর দিয়েছে।

সেন্টু দাবি করেন, যখনই শেরীফা কাদেরের সিটটা কনফার্ম হয়নি, জিএম কাদের বললেন আমি ভোটে যাবো না। যেই তার স্ত্রীর (শেরীফা কাদের) সিটটা দিয়ে দিয়েছে, সে (জিএম কাদের) দৌড়ায়ে চলে গেছে।

জিএম কাদেরকে উদ্দেশ করে সাবেক সংসদ সদস্য ও সিলেটের প্রার্থী ইয়াহহিয়া চৌধুরী বলেন, আপনি গণতন্ত্র শিখিয়েছেন, আপনার মধ্যে গণতন্ত্র নেই। আপনি স্ত্রীর জন্য ফিরোজ, বাবলা, খোকা, পীর ফজলু, আতিক, ভাসানিসহ নয়টি সিট কোরবানি দিয়েছেন। সমাঝোতার আসনের জন্য চেয়ারম্যান নিজের স্ত্রী, নাতি আর মেয়ের ভাসুরের জন্য দৌড়াদৌড়ি করেছেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২২২ আসনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।

স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছে ৬২ আসন, আর সাবেক সেনাশাসক এইচএম এরশাদের গড়া দল জাতীয় পার্টি গতবারের তুলনায় অর্ধেক অর্থাৎ ১১ আসন পেয়েছে। ভোটের আগেই চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে নির্বাচনে অংশ নেননি রওশন এরশাদ ও তার ছেলে সাদ এরশাদ।

সংসদে বিরোধীদল কারা হচ্ছে তা নিয়ে নানা গুঞ্জনের মধ্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বলেছেন, তারা বিরোধীদলে ছিলেন, এবারও বিরোধীদলে থাকতে চান।

দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুও বলেছেন, তারাই একমাত্র কার্যকর বিরোধী দল।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করে নির্বাচন করলেও গত দুই সংসদে বিরোধীদলের ভূমিকায় আছে জাতীয় পার্টি। দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের ছিলেন একাদশ সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা।

গত বুধবার বনানীতে দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে নেতা-কর্মীরা। সেখান থেকে দলের চেয়ারম্যান ও মহাসচিবকে পদত্যাগ করার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।