শুধু টিআইবি কেন, সবাই বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে কথা বলছে। আর জনগণের পক্ষে যারা কথা বলবে বিএনপি তাদেরই স্বাগত জানাবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
অন্যদিকে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়ে, আবারও নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বিএনপির সাথে আন্দোলনে থাকা দলগুলো।
শুক্রবার আলাদা কর্মসূচিতে অংশ নেয় বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে তার কবরে শ্রদ্ধা জানায় বিএনপি ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় বিএনপি নেতারা দাবি করেন, নির্বাচন যে সুষ্ঠু হয়নি তা দেশে নয় বিশ্বে প্রমাণিত হয়েছে।
নির্বাচন নিয়ে টিআইবির রিপোর্টকে জনমতের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সবাই তো বলেছে যে, নির্বাচন সুষ্ঠু হয় নাই। ন্যায্য কথা এবং দেশের গণমানুষের পক্ষে যে বলবে তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। জনগণ যা বলে সেটা গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘একপাক্ষিক ও পাতানো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ’ অ্যাখ্যা দিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি বুধবার বলেছে, এই নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত। নির্বাচন ‘অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ হয়নি বলেও মন্তব্য করে সংস্থাটি বলছে।
টিআইবির বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, টিআইবি বিএনপির দালালি করছে। বিএনপির ভাষার সঙ্গে তাদের ভাষা মিলে যাচ্ছে। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির কথাই পরিশীলিতভাবে পরিবেশন করেছে টিআইবি।
শেরে বাংলা নগরে, জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে নজরুল খান বলেন, জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই গণতন্ত্র মেরে ফেলা হয়েছে। সেটাকে পুনরুজ্জীবিত করার যে লড়াই চলছে। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আগামী আন্দোলন কর্মসূচি শিগগিরই জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান এই নেতা।
এদিকে বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশে বিএনপির সাথে থাকা দলগুলোর নেতারা আবারও নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বলেন, এ নির্বাচন দেশে-বিদেশে কোথাও গ্রহণযোগ্য হয়নি।
গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, ভারতীয় তাবেদাররা সাজানো-পাতানো ডামি নির্বাচন করে দেশে বাকশাল কায়েম করে ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে।
তিনি বলেন, এই সরকার যদি তার ভুল বুঝতে পেরে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য জাতীয় ঐক্য, সংহতির পথে হাঁটে আমরাও তাদের সঙ্গে কাজ করব। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আগামীর রাষ্ট্র গঠন করবো। কিন্তু তার জন্য এই ডামি সংসদ ভেঙে দিতে হবে।
সমাবেশ শেষে গণমিছিল করে গণ অধিকার পরিষদ। মিছিলটি প্রেসক্লাব থেকে হাইকোর্টের কদম ফোয়ারা হয়ে পল্টন নাইটিঙ্গেল মোড় ও বিজয়নগর গিয়ে শেষ হয়।