ভোটের পর প্রথম একই দিনে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি

গত বছরের ২৮ অক্টোবরের পর প্রথমবারের মতো রাজধানীতে একই দিনে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

শনিবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২০ দিন পর দল দুটি মাঠে নামছে। দুপুর ২টায় রাজধানীসহ সব মহানগরে কালো পতাকা মিছিল করবে বিএনপি। আর বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে শান্তি সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী।

এদিকে, দ্রব্যমূল্যের ‘লাগামহীন’ ঊর্ধ্বগতি, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে কালো পতাকা মিছিল দিয়ে রাজপথ থাকবে বিএনপি। দুপুর ২টায় ঢাকাসহ মহানগরগুলোতে কালো পতাকা মিছিল করবে দলটি। শুক্রবারও জেলায় জেলায় কালো পতাকা মিছিল করেছিলো দলটির নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, মিছিলের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মৌখিক অনুমতি পেয়েছে। নয়াপল্টন থেকে মিছিল শুরু হয়ে মগবাজার গিয়ে শেষ হবে।

গত ৭ জানুয়ারি দেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে টানা চতুর্থ মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের পর ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করে দলটি।

গত ২৮ অক্টোবর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপির মহাসামবেশ পণ্ড হয়ে যায়। প্রধান বিচারপতির বাসভবন এবং পুলিশ হাসপাতালে হামলা চালায় বিএনপি কর্মীরা। তাদের হামলায় নিহত হন একজন পুলিশ সদস্য। ওইদিন আওয়ামী লীগেরও সমাবেশ ছিলো।

২৮ অক্টোবর নাশকতার অভিযোগে বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতাসহ অনেক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য নেতাদেরও খুব একটার মাঠে দেয়া যায়নি।

এরপর জামায়াত ও সমমনাদের নিয়ে টানা অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচি পালন করে দলটি। এই কর্মসূচির সময় সারাদেশে যানবাহনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেয় অবরোধ-হরতাল সমর্থনকারীরা। প্রাণও যায় কিছু মানুষের।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বর্জন করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে ভোটের দাবি করে বিএনপি। ৭ জানুয়ারি ভোটের আগে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডাকে আওয়ামী লীগ। হরতাল চলার মধ্যে ভোটের আগে বিভিন্ন জায়গায় ভোটকেন্দ্র পোড়ানো হয়।  

নির্বাচনের পরে লিফলেট বিতরণ ও ঘরোয়া সভা-দোয়া মাহফিলের মধ্যে কার্যক্রম সীমিত রেখেছিলো বিএনপি।