পরাজয়ের ভয়ে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে মারে তাই জনগণ তাদের ভোট দেবে না। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি কারণ তারা জানে যে জনগণ তাদের ভোট দেবে না। জার্মানির মিউনিখে নাগরিক সংবর্ধনায় তিনি ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আহ্বান জানান।
জার্মানির মিউনিখে ১৬ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নিতে দেশটিতে সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা চতুর্থ মেয়াদে সরকার গঠনের পর এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম বিদেশ সফর। এ সফরে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী মিউনিখে প্রধানমন্ত্রীকে নাগরিক সংবর্ধনা দিয়েছেন।
শুক্রবার রাতে মিউনিখের হোটেল বার্গারহাউস গার্চিংয়ে জার্মানিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর ভাগ্য নিয়ে যে কোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশকে কেউ যেন পেছনের দিকে ঠেলে দিতে ও রাজাকারের দেশে পরিণত করতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সব সময় সজাগ থাকতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি পরাজয়ের ভয়ে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। যারা জ্বালাও-পোড়াও করে জনগণ তাদের কেন ভোট দেবে। আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে বলেই তারা ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে। মানুষের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ষড়যন্ত্র করতে দেয়া হবে না।
শেখ হাসিনা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে মাথা তুলে সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে দেয়া যাবে না। আমরা দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে। কেউ যেন দেশকে পিছিয়ে ঠেলে রাজাকারদের দেশে পরিণত করতে না পারে সেজন্য সতর্ক থাকুন।
তিনি বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত বলেন, যেখানে সব বিশ্বাসের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে। মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িকতার চেতনায় বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট সোনার বাংলাদেশে রূপান্তরে জাতির পিতার স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করবো।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি কখনো নিজের প্রয়োজনের কথা চিন্তা করি না বরং চিন্তা করি দেশ ও দেশের মানুষের উন্নতির জন্য আমি কী করতে পারি। জাতির পিতার নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশের মানুষ মাতৃভাষা বাংলাসহ দেশের স্বাধীনতা- সবকিছু পেয়েছে, যেহেতু আওয়ামী লীগ জনবান্ধব দল।
সরকার প্রধান বলেন, আওয়ামী লীগ আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের দল আছে বলেই কোভিড-১৯ মহামারির মতো বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। আমি সব সময় জনগণের জন্য কিছু করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগ সরকার দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি খাদ্য ঘাটতি মিটিয়েছে।
দেশের সার্বিক উন্নয়নের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশের ব্যাপক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করেছেন। আমাদের উন্নয়ন লক্ষ্য শুধু মেগা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা নয়, তৃণমূলেও অগ্রগতি করা।
এ সময় বিএনপিকে ‘লুটেরাদের দল’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দল জনগণের কল্যাণে কিছুই করে না, বরং নিজেদের ভাগ্য গড়ে তোলে। তারা (বিএনপি নেতাকর্মী) গাড়িতে আগুন দেয় ও মানুষকে পুড়িয়ে মারার কারণে পরাজয়ের ভয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য। গত সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ বিশেষ করে নারীরা অবাধে ভোট দিয়েছে। এবার আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় না বসালে ২০০৯ সাল থেকে গত ১৫ বছরে আ.লীগ শাসনামলে যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, তা নষ্ট হয়ে যেতো। লুটেরা (বিএনপি) সব লুট করে নিতো।
সরকার বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে, এমন কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদের ধন্যবাদ জানিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের নিজেদের যোগ্য হিসেবে প্রস্তুত করতে বলেন, যাতে তারা নিজেদের, দেশ ও মানুষের সেবা করতে পারে। তিনি বলেন, তার সরকার বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। আমরা লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছি এবং যার জন্য আমরা দক্ষ জনশক্তি তৈরি করছি।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং মিউনিখের স্থানীয় মেয়র অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।