দ্বিগুণ দামে পণ্য মিলছে না: আব্বাস 

দ্বিগুণ দাম দিয়েও মানুষ রমজানের পণ্য কিনতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের সময় মানুষ স্বস্তিতে কোনো রমজান পার করতে পারেনি। আর এই পরিস্থিতি থেকে মানুষকে মুক্ত করতেই বিএনপি আন্দোলন করছে।

সোমবার রাজধানীর শাহজানপুরের বাসায় সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। সাড়ে তিন মাস কারাভোগের পর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ছাড়া পাওয়ার পর এটিই তার প্রথম সংবাদ সম্মেলন।

মির্জা আব্বাস বলেন, আওয়ামী লীগের কোনো একটা সময় আমি দেখি নাই যে এ দেশের মানুষ স্বস্তিতে রমজান পালন করেছে। এবারও জিনিসপত্রের দাম কোনোটাই কম নাই।

বিএনপির এই নেতা দাবি করেন যে, আগে যারা তিনবেলা খেতো, এখন দুইবেলা খায়। আর যারা দুইবেলা খেতো তারা এখন একবেলা খায়। এখন দাম নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই।

বিএনপির সময়ে রমজানে পণ্যের দাম তুলনা করে তিনি বলেন, খেজুর চিনি ছোলাসহ প্রায় সব পণ্যের দামই আড়াইশো থেকে পাঁচশো গুন বেড়েছে।

শিল্পমন্ত্রীর বড়ই দিয়ে ইফতার করার পরামর্শের কথা উল্লেখ করে আব্বাস বলেন, সেই মন্ত্রীর বোধহয় অভিজ্ঞতা নাই যে, খালি পেটে বড়ই খেলে কতো মারাত্মক সমস্যা হতে পারে।

তিনি বলেন, গাজায় নারকীয় হত্যাকাণ্ড হয়েছে, সেই গাজায়ও ঈদের মতো রমজান মাস শুরু করেছে। আমাদের দেশে সেই অবস্থা নাই। আমি যখন তারাবির নামাজ পড়তে যাবো, দেখবেন বিদ্যুৎ নাই। হঠাৎ করে অন্ধকার হয়ে গেছে। বাজারে কিছু কিনতে যাবো, দেখবো কিনতে কিনতে টাকা নাই, শেষ হয়ে গেছে।

নিজের কারাগারে থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, জেলখানায় একটা ডিমের দাম ২০ টাকা। আমি শুনে আকাশ থেকে পড়লাম। সব মিলিয়ে রমজান মানুষের জন্য কতটুকু স্বস্তিদায়ক হবে, তা নিয়ে অনেক সন্দেহ আছে।

মির্জা আব্বাস বলেন, আওয়ামী লীগ নির্দলীয় সরকারের দাবিসহ কোনো দাবিই মানেনি। দলীয় সরকারের অধীনে যে নির্বাচন হয়েছে, সেটি গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের আরেক অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান বলেন, জনগণের সমর্থন না থাকায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আগ বাড়িয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ইস্যু তুলছেন।

আর আওয়ামী লীগের শাসনামলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কেউ আর নিরাপদে নেই বলে মন্তব্য করেন মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস।