জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন বাতিল

জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরকে নিষিদ্ধের আদেশ প্রত্যাহার করে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। 

বুধবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা-২ থেকে রাষ্ট্রপতি আদেশে সিনিয়র সচিব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।

এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে জানিয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘এস.আর,ও নং ৩০০ -আইন/২০২৪।- যেহেতু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ এর সব অঙ্গ সংগঠনের সন্ত্রাস ও সহিংসতায় সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায় নাই; এবং 

যেহেতু সরকার বিশ্বাস করে যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং উহার ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ এর সব অঙ্গ সংগঠন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে জড়িত নয়;

সেহেতু সরকার, সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এর ধারা ১৮ এ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং দলটির ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ এর সব অঙ্গ সংগঠনকে রাজনৈতিক দল ও সংগঠন হিসাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা সংক্রান্ত এ বিভাগের বিগত ১৭ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ০১ আগস্ট ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ তারিখের প্রজ্ঞাপন এস. আর.ও, নং. ২৮১/আইন/২০২৪ এতদ্বারা বাতিল করলো এবং উক্ত আইনের তফসিল-২ হতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং এর ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ এর সব অঙ্গ সংগঠনের তালিকাভুক্তি বাতিল করলো।’

এদিন জামায়াতের আইনজীবী শিশির মনির একাত্তরকে জানান, সরকার জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবির নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন বাতিল করেছে। আজই প্রজ্ঞাপন জারি হবে। ফলে দলটির রাজনীতি করতে আর কোনো বাধা নেই।

তিনি আরও জানান, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের পুনরায় শুনানির আবেদন করা হবে।

এর আগে এক আগস্ট দল জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরকে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করে আওয়ামী লীগ সরকার। চার দিনের ব্যবধানে পাঁচ আগস্ট আন্দোলনের মুখে পতন ঘটে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের। 

এক আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করে বলা হয়েছিলো, দলটি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ি। 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া কয়েকটি মামলার রায়ে বলা হয়, উচ্চ আদালতের রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। তাছাড়া সরকারের কাছে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং তার অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাম্প্রতিককালে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সরাসরি এবং উসকানির মাধ্যমে জড়িত ছিল। তাই সন্ত্রাস দমন আইনে তাদের নিষিদ্ধ করা হলো।

এদিকে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির নিষিদ্ধের নির্বাহী আদেশ প্রত্যাহারে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়। আবেদন করে বৈধতা ফিরে পেতে। 

তারও আগে ২৯ জুলাই গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন ১৪ দলের নেতারা। পরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানান।