জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, ছাত্ররা জীবন দিয়ে দেশ রক্ষা করতে পারলেও, এককভাবে দেশ চালাতে পারবে না।
সোমবার জাতীয় পার্টির ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে মতিবিনিময় সভায় তিনি আরো বলেন, আবেগ ও জীবন দিয়ে দেশ রক্ষা করা গেলেও দেশ চালানো যায় না। দেশ চালাতে দরকার জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা।
জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ছাত্ররা আমাদের চেয়ে বেশি রাজনীতি বোঝে। তাদের প্রধান শক্তি হচ্ছে একতা, দ্বিতীয় শক্তি হচ্ছে জনগণের আস্থা। সেজন্যই ছাত্রদের ঐক্য ধরে রাখতে হবে এবং ক্ষমতা ও লোভ-লালসার বাইরে থাকতে হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে জি এম কাদের বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় না এসেই তাদের নেতা-কর্মীরা যে অবস্থা সৃষ্টি করেছে তা সাধারণ মানুষ পছন্দ করছে না। রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সাথে বিএনপির মুখোমুখি অবস্থা। কেউ দখলবাজি শুরু করলে, ছাত্ররা তার প্রতিবাদ করছে। শেষ পর্যন্ত জনগণ কার পক্ষে থাকবে তা এখনও নিশ্চিত নয়।
এখনই নির্বাচন চান না জানিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, কারণ, ভালো নির্বাচন আমরা অতীতে অনেক দেখেছি। ভালো নির্বাচনের পরে ভালো সরকার হয় না।
ভালো নির্বাচনের পরে ‘ভালো সরকার’ দেখতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, যাদের জনগণের কাছে জবাবদিহিতা থাকবে, যারা ব্যক্তিগত ও দলীয় সম্পদ হিসেবে দেশকে ব্যবহার করবে না। সেই রকম সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে, সেজন্য বর্তমান সরকারকে আমরা সময় দিতেও রাজি আছি।
অনির্বাচিত সরকারগুলো দেশে ‘অনেক বেশি গণতন্ত্রমনা’ ছিল দাবি করে তিনি বলেন, অনির্বাচিত সরকারগুলোই জনগণের মতামতের বেশি গুরুত্ব দেয়। তাই, অনির্বাচিত সরকারকে সংস্কারের জন্য সময় দিতে আমাদের আপত্তি নেই।
২০০৮ সালের আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত নির্বাচনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা নিয়ে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলো মন্তব্য করে জিএম কাদের বলেন, দুর্নীতি ও দুঃশাসনে মানুষকে অস্থির করেছিলো।
আওয়ামী লীগের আমলে নির্বাচনে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপিসহ সকল দল অংশ নিয়েছিলো, আমরাও নির্বাচনে গিয়েছিলাম। ২০২৪ সালের নির্বাচনে আমরা যেতে চাইনি। তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। তারপরও আমরা নির্বাচনে যেতে চাইনি, তখন জোর করে আমাদের নির্বাচনে নেয়া হয়েছে। আমাদের অফিস ঘেরাও করে রাখা হয়েছিলো, আমরা যাতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে না পারি।
জি এম কাদের বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর আমরা সরকারের দুর্নীতি, টাকা পাচার, ব্যাংক লুট, নিজেদের অর্থায়নে যে পদ্মাসেতু করা হয়নি তা সংসদে ও সংসদের বাইরে আমরা বলেছি। আমরা নির্বাচনে না গেলে নির্বাচন বন্ধ হতো? আমরা নির্বাচনে না গেলে আওয়ামী লীগ সরকার কি টিকতো না? আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে সরকারের দুঃশাসনের জন্য। চাকরিতে কোটা পদ্ধতি, মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতার পক্ষ ও বিপক্ষ বলে মানুষের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি করেছিলো আওয়ামী লীগ। দেশের মানুষের মাঝে বৈষম্য সৃষ্টির জন্যই আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে।
ছাত্র সমাজের সভাপতি আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টি মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, শেরীফা কাদের, মাসরুর মওলা, জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, আরিফুর ইসলাম খান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোঃ খলিলুর রহমান খলিল, মইনুর রাব্বী চৌধুরী রুম্মন, মো. মোস্তফা মহসিন, ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ সেলিম, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য হুমায়ুন খান, মো. আব্দুল হান্নান, এমএ রাজ্জাক খান।