আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী কীভাবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তি পেলেন বলে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাবের হোসেন চৌধুরীর নির্দেশে বহু গুম-খুন হয়েছে। তার মতো লোক কীভাবে জামিনে মুক্তি পেলেন?
বৃহস্পতিবার খিলগাঁওয়ে গুম-খুন হওয়া পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে সাবের হোসেন চৌধুরীর বিচারের দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন রিজভী।
তিনি বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান। উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন। তিনি আইন উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় একজন খুনি কীভাবে জামিন পায়?
রিজভী বলেন, এই এলাকায় কী রকম জুলুম নিপীড়ন নির্যাতন চালিয়েছে। কতজন হাত-পা হারিয়েছে। জনির মত তরুণ ছেলে জীবন দিয়েছে। তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে এসে ১৬টি গুলি করে হত্যা করেছে। সাবের হোসেন কী এর জন্য দায়ী নয়? তার নির্দেশেই এই এলাকায় ১১ জন গুম-খুনের শিকার হয়েছে। এর দায় তিনি এড়াতে পারেন না।
তিনি বলেন, যার সন্তানকে খুন করা হয়েছে, সেই বাবার চোখের পানি মোছার টিস্যু এখনো তৈরি হয়নি। ছাত্র আন্দোলনে এই এলাকার পাঁচজন শহীদ হয়েছে। শেখ হাসিনা গণহত্যা চালিয়েছে। তার সহযোগী এই সাবের হোসেন চৌধুরী। তিনি তো শেখ হাসিনার চেতনায় লালিত-পালিত। তাদের আমলে কেউ গণতন্ত্রের পক্ষে টু শব্দ করতে পারেনি । বিএনপির পক্ষে, বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে, দেশনায়ক তারেক রহমানের পক্ষে কেউ কথা বলতে পারেনি। এই জন্যই সাবের হোসেন গুম খুনের কর্মসূচি সফল করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগ খুন করেছে, মামলা হয়নি। দখলবাজি করেছে, মামলা হয়নি। শেখ হাসিনা চাইনি, তাই হয়নি। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের সমর্থিত সরকার। তারা যদি শেখ হাসিনার অনুসারী হয়, তাহলে এই সরকার কাকে প্রটেকশন দিচ্ছে?
রিজভীর আরও অভিযোগ করে বলেন, সাবের হোসেন চৌধুরী বিনা ভোটে বছরের পর বছর এমপি থেকেছে। তার নির্দেশেই এতগুলো খুন, বিচার-বহির্ভূত হত্যা হয়েছে। সে যদি জামিনে মুক্তি পায় তাহলে যারা অর্থ কেলেঙ্কারি করেছে, যেসব পুলিশ ক্রসফায়ার দিয়েছে, বাসা থেকে তুলে নিয়ে আঙ্গুলের নখ তুলে ফেলেছে, মাথায় বন্দুক রেখে গুলি করে হত্যা করেছে, তারা তো কয়েকদিনের মধ্যে ছাড়া পেয়ে যাবে। এর উত্তর কী দিবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার?
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাবিবুর রশিদ হাবিব, মহানগর বিএনপি নেতা ইউনূস মৃধা, সাবেক কাউন্সিলর লিটন, সেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবির, যুবদলের মেহেবুব মাসুম শান্ত, আরিফুর রহমান তুষার, ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, মাসুদুর রহমান, রাজু আহমেদ প্রমুখ।