বন্ধুত্ব চাইলে দাদাগিরি বন্ধ, আগে তিস্তার পানি: ভারতকে ফখরুল

বন্ধুত্ব চাইলে ভারতকে ‘দাদাগিরি’ বন্ধ করে আগে তিস্তার পানি দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তিনি বলেন, সীমান্তে গুলি করে হত্যা বন্ধ করেন। আর আমাদের সঙ্গে বড় দাদার মতো আচরণ বন্ধ করেন। আমরা আমাদের পায়ের ওপর দাঁড়াতে চাই। আমরা আমাদের হিস্যা বুঝে নিতে চাই। আমরা অবশ্যই ভারতকে বন্ধুত্বের সঙ্গে দেখতে চাই। যে বন্ধুত্ব হবে সম্মানের সঙ্গে আমাদের পাওনা বুঝিয়ে দেবার।

তিনি বলেন, তিস্তা বাঁচাতে আন্দোলন শুরু হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। 

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লালমনিরহাটের তিস্তা রেলসেতু সংলগ্ন এলাকায় ‘তিস্তা বাঁচাও আন্দোলন’ কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করে তিনি এসব কথা বলেন।

'জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে এদিন একই সঙ্গে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার ১১টি পয়েন্টে সমাবেশ, পদযাত্রা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করছে ‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি’। 

‘জাগো বাহে-তিস্তা বাঁচাও’ স্লোগানে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

কর্মসূচির উদ্বোধনীতে যোগ দিয়ে বিএনপি মহাসচিব জানান, এবার বাঁচা মরার আন্দোলন। যে কোনো মূল্যে তিস্তার হিস্যা আদায় করতে হবে।

তিনি বলেন, তিস্তা বাঁচানোর ডাক আমাদের অন্তরের ডাক। আমরা লড়াই করেছি ১৫ বছর ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে। আমাদের ছেলেরা লড়াই করেছে। ৩৬ দিনের সকলের লড়াইয়ের মাধ্যমে তিনি (শেখ হাসিনা) ওই ভারতে পালিয়েছেন। একদিকে পানি দেয় না, অন্যদিকে আমাদের যে শত্রু তাকে (হাসিনা) দিল্লিতে রাজার হালতে বসিয়ে রেখেছে। সেখান থেকে তিনি আবার আওয়ামী লীগারদের বিভিন্ন হুকুম রাজি করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে পরিষ্কার করে বলতে চাই, তিস্তা নিয়ে আপনাদের মুখ খুলতে হবে। ভারতকে বলতে হবে আমরা পানির ন্যায্য হিস্যা চাই। আর আপনারা যেহেতু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেহেতু যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচন দিয়ে জনগণের সরকারের হাতে ক্ষমতা দেন।