বড় রাজনৈতিক দলগুলো সংসদ ও রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর রাখার পক্ষে থাকলেও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি মত দিয়েছে কমিশন প্রস্তাবিত চার বছরে। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দুইবারের বেশি চায় না দলটি। এছাড়া, দলের পক্ষ থেকে জাতীয় নির্বাচনকে অলাভজনক করার প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে এলইডি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
পাঁচ কমিশনের সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে নিয়মিত আলোচনার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ঐকমত্য কমিশনে আসে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। চার ঘন্টার টানা বৈঠক শেষে দলের সাধারণ সম্পাদক জানান, কমিশন প্রস্তাবিত সংসদ ও রাষ্ট্রপতির মেয়াদ চার বছরই রাখার পক্ষে তার দল। প্রধানমন্ত্রী থাকবে সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে।
সাইফুল হক বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। জাতীয় নির্বাচনে জামানতের পরিমাণ কমানোর পক্ষে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থানীয় সরকারের হাতে হস্তান্তর করতে চায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।
সাইফুল হক বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সামনে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে। যেহেতু এই কমিশনের কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা নেই, তাই আমরা বিশ্বাস করি মে-জুনের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একটি ন্যূনতম ঐক্যমতে পৌঁছানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, কমিশন যদি অন্তত ন্যূনতম বটম লাইনে পৌঁছাতে পারে, তাহলে দেশ একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক পথে এগোবে। তবে বেশি টানাটানি করলে রশি ছিঁড়ে যেতে পারে—এটি আমাদের সবারই মনে রাখা উচিত।
বৈঠকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রিয়াজ বলেন, জুলাই সনদ কেবল সরকারের একক ইচ্ছার বিষয় নয়, এটি একটি জাতীয় স্বার্থের দলিল হবে। আমরা ভিন্ন ভাষায় কথা বললেও আমাদের লক্ষ্য অভিন্ন—জনগণের আস্থা অর্জন এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চায় তারা।
বৈঠকে কমিশন এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মধ্যে রাজনৈতিক পরিবেশে আস্থা পুনর্গঠন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের রূপরেখা এবং জাতীয় সংলাপের সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হয়।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে।