জামায়াতসহ আট দলের কর্মসূচিতে এনসিপির সংহতি

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন, সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে নতুন কর্মসূচি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দল। দাবি আদায় না হলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচিরও আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। আট দলের এই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সরকার যদি কোনো পেটোয়া বাহিনী দিয়ে হামলা চালায় আমরা আপনাদের সঙ্গে রাস্তায় নামবো। আপনারা এই আন্দোলন ছেড়ে বাসায় ফিরবেন না।

বুধবার (১২ নভেম্বর) ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে নাসীরুদ্দীন এসব কথা বলেন।

এনসিপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বর্তমান বাংলাদেশে অনেকগুলো সঙ্কট ও সরকারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা কারও সঙ্গে কানেক্ট করতে পারছে না। যতো আন্দোলন হচ্ছে, যারা আন্দোলন করছে সরকার সরকার পেটাচ্ছে বা জলকামান ট্রিটমেন্ট দিচ্ছে।

বাহাত্তরের সংবিধানের ‘পতন’ দাবি করে তিনি বলেন, বর্তমান সংবিধান, রাষ্ট্রের সিস্টেমের অধীনে বাংলাদেশ চলতে পারে না। গেলো ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট পন্থায় বিএনপি ও জামায়াতের ওপড় নির্যাতন চালিয়েছে আওয়ামী লীগ। 

আট দলগুলোর পাঁচটি দাবি হলো—

  1. জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি এবং নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট আয়োজন;
  2. আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয়কক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালু;
  3. সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন;
  4. আওয়ামী লীগ সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা,
  5. জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা।

নাসীরুদ্দীন বলেন, সদ্য ভূমিষ্ঠ কোনো সন্তান বা বাবা যাতে ফ্যাসিস্ট রিজিমের কারণে ভুক্তভোগী না হয় সেই কারণে আমরা সংস্কার চেয়েছি। কিন্তু এর থেকে একটি দল বের হয়ে গেছে। তারা বলে, দেশের মানুষ সংস্কার বোঝে না। তাহলে গণ-অভ্যুত্থানের পর দেয়াল গ্রাফিতিগুলো আঁকলো কারা। দেশের মানুষ সংস্কার চায় বলেই গ্রাফিতি এঁকেছে।

বিএনপিকে ঐকমত্য কমিশনের দেওয়া সংস্কার মেনে নেওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া জনগণের পালস ধরতে পেরেছিলেন বলেই দেশের অন্যতম বড় দল বিএনপি তৈরি হয়েছে। কিন্তু এখন যারা আছেন, তারা নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারছে।

বর্তমান সরকার জনবিচ্ছিন্ন সরকারে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যে বা যারা যতো দাবি দিয়েছে সরকার একটি দাবিও মানেনি। কোনো কিছুর বাস্তবায়ন করেনি। সরকার যে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা বাস্তবায়ন করেনি বরং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্যে আবার তাদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে। যারা ভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করেছে সরকারের প্রতি আহবান তাদের জন্যে সাম্য ফিরিয়ে আনবেন।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা কিছু বললে উপদেষ্টারা নাখোশ হন। আপনাদের নাখোশ হলে চলবে না। চেয়ারে যেহেতু বসেছেন, চেয়ারে দায়িত্ব আপনারা পালন করবেন।

ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরি প্রতিষ্ঠান জেএমআইকে দেশের একটি বড় ‘মাফিয়া’ মন্তব্য করে সরকারকে নাসীরুদ্দীন বলেন, স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি রোধে বাংলাদেশের মানুষকে একটা স্বাস্থ্য কাঠামো দিন। নয়তো স্বাস্থ্যখাতের অব্যবস্থাপনায় বহু মানুষ মারা যাবে। সরকারের কাছে আমাদের একটাই চাওয়া- আমাদের কোনো ভাই-বোন যাতে স্বাস্থ্য অব্যবস্থাপনায় মারা না যান।

এদিকে বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের লকডাউন ঠেকাতে আমাদের হাসনাত আবদুল্লাহই যথেষ্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মরণ এসেছে, এখন দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

এসময় দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সবচেয়ে অপ্রিয় কথাটা হজম করার শক্তি থাকতে হবে। হাসিনা কোনো ব্যক্তি না হাসিনা আইডিয়া। আমাদের কথা বলা হজম করতে হবে। আপনি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে এভাবে কথা বলতে পারেন না। আপনারা রাজনীতির ঊর্ধ্বে না।

তিনি বলেন, হাসিনার সময় মত প্রকাশের স্বাধীনতা ছিলো। দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা ছিলো না। যারা দ্বিমত প্রকাশ করতে এসেছে, তাদের মেরে ফেলা হয়েছিলো। আমরা এমন গণতন্ত্র চাই, যেখানে কেউ সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকবে না। কিন্তু সার্বভৌমত্ব ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তিনি বলেন ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক ক্রিয়াশীল দলগুলোকে এক থাকতে হবে, বাংলাদেশ প্রশ্নে এক থাকতেই হবে। দলীয় প্রধানকে প্রশ্ন করার হিম্মত থাকতে হবে।