আসন্ন জাতীয় বাজেটে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে যুগান্তকারী ও নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (৮ জুন) রাতে রাজধানীর বাসাবো বৌদ্ধ মন্দিরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও প্রার্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা জানান।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের বর্তমান উন্নয়নযজ্ঞের কথা উল্লেখ করে বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের অল্প দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে কাজগুলো শুরু করেছেন, তা সত্যিই যুগান্তকারী। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো মানবিক ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশে এখন নতুন কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে।
জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে সরকারের এই জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী বলেন, একসময় এ দেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলা হতো। সেই তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে দেশকে টেনে তুলে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ সালের চরম বিপর্যয় থেকে তিনি দেশকে রক্ষা করেছিলেন। আজ দেশ যে অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তার মজবুত ভিত্তিও রচনা করেছিলেন তিনি। জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকলে বাংলাদেশকে আজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতেন।
দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহবান জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জিয়াউর রহমান সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন ‘রেইনবো স্টেট’ বা রংধনু রাষ্ট্র গঠন করতে চেয়েছিলেন।
এসময় এলজিআরডি মন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী দেশ ও বর্তমান সরকারকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চায়। তারা কৃত্রিমভাবে ধর্মভিত্তিক সমস্যা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়। এটি একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আমরা সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রক্ষায় বিশ্বাস করি। দেশের চলমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধরে রাখতে এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার শান্তি এবং দেশের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।