নড়াইল-২ (সদরের একাংশ ও লোহাগড়া) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) আতাউর রহমান বাচ্চুকে দলের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্প্রতি সংঘটিত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদের নড়াইল-২ আসনের বিরোধী দলের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে। তবে ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান মঞ্জুরির তালিকায় তার মেয়ের নাম থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
গত ১৮ জুন সংসদ সচিবালয়ের অর্থ শাখা-২ থেকে জারি করা এক পত্রে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা ১০ জনের নামে অনুদান মঞ্জুর করা হয়েছে।
ওই তালিকায় ১ ও ৮ নম্বরে রয়েছে 'ফাইজা' নাম। দুটি নামের পাশে বাবার নামের স্থলে লেখা রয়েছে যথাক্রমে মো. বাচ্চু ও মো. আতাউর। উভয়ের জন্য ১০ হাজার টাকা করে অনুদান বরাদ্দের উল্লেখ রয়েছে। এ দুটি নামের একটি সংসদ সদস্যের মেয়ের বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়। এছাড়া, তালিকায় নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জন উপকারভোগীর মধ্যে ৯ জনই সংসদ সদস্যের নিজ ইউনিয়ন হবখালীর এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি তার শ্বশুরবাড়ি লাহুড়িয়া এলাকায় বলে অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, আমি তখন নড়াইলে ছিলাম না। আমার পিএস একদিন বলল, এ বিষয়ে তালিকা দিতে হবে। আমি বলেছিলাম, সব ইউনিয়ন থেকে নিয়ে তালিকা নাও। সে বলল, অফিস থেকে বলা হয়েছে যেকোনোভাবে একটা তালিকা জমা দিয়ে বরাদ্দ নিয়ে যেতে, পরে এমপি যেভাবে চাইবেন সেভাবে বিতরণ করা যাবে। তখন আমার স্বাক্ষরিত প্যাড ঢাকায় তার কাছে ছিল। আমি তাকে বলেছিলাম, প্যাডে একটা তালিকা তৈরি করে জমা দিয়ে দাও, তোমার চেনাজানাদের দিয়ে। সেই চেনাজানা জায়গাগুলোয় আমার পরিবার বা এলাকার লোক বেশি পড়ে গেছে। সেই অনুযায়ী সে তালিকা দিয়েছে।
অনুদানের অর্থ বরাদ্দের বিষয়েও আগে জানতেন না বলে দাবি করেন আতাউর রহমান বাচ্চু। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, টাকাটাও যে এসেছে, আমি জানতাম না। ফেসবুকে বিষয়টি দেখার পর ইউএনওকে জিজ্ঞেস করি। তিনি বলেন, টাকা এসেছে। তখন আমি বলেছি, আমাকে তো জানানো হয়নি। ওই তালিকা অনুযায়ী আমি টাকা বিতরণ করব না। আমার নিজের তালিকা ইউএনওকে দেব, সেই তালিকা অনুযায়ী অনুদান বিতরণ করা হবে।