শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় আসামি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানিয়ে ইতিমধ্যে একটি আবেদন জমা পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) এই আবেদন করা হয় এবং এদিনই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, মোজাফফর হোসেনকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার ও বিচারের যাবতীয় আইনি প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মাসুদ উদ্দীন চৌধুরীর একটি কথোপকথনের সূত্র ধরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়।
অন্যদিকে, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার এই আসামির বিচার নিয়ে ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিচার সাধারণ সিভিল কোর্টের বদলে সেনা আইনের অধীন জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একই অপরাধে একজন ব্যক্তির দুই আইনে বিচার হতে পারে না। এ কারণে তাকে ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
তিনি আরও বলেন, সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিচার প্রক্রিয়া চলাকালে জিয়া হত্যা মামলায় আগে যেসব আসামি দণ্ডিত বা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাদের মামলার রায়ে মোজাফফরের বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ বা ফাইন্ডিংস থাকলে তা জেনারেল কোর্ট মার্শাল বিবেচনায় নেবে।
সামরিক ও দেওয়ানি আদালতের আইনি এক্তিয়ার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেনা আইনের অধীনেই তার বিচার সম্পন্ন হবে। একই মামলায় নতুন করে তাকে সিভিল কোর্টে অন্তর্ভুক্ত করা কতটা আইনসম্মত হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত পর্যালোচনা করে দেখবে।