কক্সবাজারে বহু আলোচিত পৌর কাউন্সিলর একরামুল হককে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যা এবং সাভারে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকালে এপিসি থেকে ফেলে শাইখ আসহাবুল ইয়ামিনকে হত্যার দুটি আলাদা মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দুই মামলার ২১ জন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) বিচারক বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন বিচারকের ট্রাইব্যুনাল-২ এসব আদেশ দেন।
২০১৮ সালে কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে পৌর কাউন্সিলর একরামুল হককে 'ক্রসফায়ারে' হত্যার ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনকে আসামি করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনাল-২ অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে শেখ হাসিনাসহ পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কে একরামুল হক নিহত হন। সে সময় ঘটনাটিকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বলে দাবি করা হলেও পরবর্তীতে ফাঁস হওয়া একটি কলরেকর্ডে একরামুলের আকুতি এবং নির্মম গুলির শব্দ ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ঘটনাটির তদন্ত শেষে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন দল মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চার্জ দাখিল করে।
অন্যদিকে, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সাভারে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) শিক্ষার্থী শাইখ আসহাবুল ইয়ামিনকে গুলির পর পুলিশের সাঁজোয়া যান (এপিসি) থেকে টেনে নিচে ফেলে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় সাভারের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ মামলার পলাতক ১৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা, ষড়যন্ত্র ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দায়ের করা আলাদা মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজন আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ দিন ২৭ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিচ্ছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আশরাফ কায়সার।