অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি আরও বলেন, কী ধরনের পরিবর্তন আনলে দেশ এগিয়ে যাবে, তা নিয়ে সবসময় চিন্তা করেন প্রধানমন্ত্রী। ইতোমধ্যে নিজের কাজ দিয়ে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিভিল ডিসকোর্স ন্যাশনালস আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, দেশের সামনে অনেক বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান হবে এমন ভাববার সুযোগ নেই। দেশের তরুণেরা তাদের মেধা, সামর্থ্য ও দেশপ্রেম দিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যেসব পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্র-তরুণদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে সাজানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে শক্তিশালী নেতৃত্ব ও সুপরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগও আছে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, দেশে শক্ত নেতৃত্ব প্রয়োজন। আমরা বারবার হোঁচট খেয়েছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাসিত জীবন থেকে ফিরে এসে প্রথমেই একটি পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। দেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে পরিকল্পনার বিকল্প নেই। আর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আশাবাদী বলেও জানান মির্জা ফখরুল।
এই দেশে তরুণরা ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়ে গণতন্ত্র কায়েম করেছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাই এই দেশকে নিয়ে আমি স্বপ্ন দেখি। আর সেই ভরসা পাই তরুণদের জন্য। তাদের বুকের মধ্যে বাংলাদেশ; সেটাই আমাদের শক্তি। আমরা সব বাধা অতিক্রম করে রুখে দাঁড়াতে পারব।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ তোমাদের হাতেই। জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সংকটসহ নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও তরুণদের শক্তি ও অদম্য আকাক্সক্ষা দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার আশা জাগায়।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ বহুবার ধাক্কা খেয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এবারও দেশ ঘুরে দাঁড়াবে এবং সব বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আশরাফুল হক, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওটি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রহমান, অর্থনীতিবিদ জ্যোতি রহমান, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া এবং বাংলাদেশ ডায়ালগের চেয়ারম্যান রুবাইয়াত মান্নান।