আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার জন্য দায়ী দল হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে এবং তাদের আর কোনো রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভা ও শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা সামনের সারিতে থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারাই চব্বিশের আসল ও প্রকৃত যোদ্ধা। তাদের স্বপ্নের নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের গণজাগরণ কোনো একদিনে আসেনি। ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে স্বৈরাচারবিরোধী যে লাগাতার মুক্তি সংগ্রাম গড়ে উঠেছিলো, তাতেই এই সোপান তৈরি হয়েছে। এই ধারাবাহিক লড়াইয়ে আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ারও বিশাল অবদান রয়েছে। কারণ স্বৈরাচারের পতন যেমন একদিনে হয় না, তেমনই কেবল জুলাইয়ের ৩৬ দিনেও এই পতন নিশ্চিত হয়নি।

সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ায় সব পক্ষের অংশগ্রহণের আহবান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রস্তাবিত অষ্টাদশ সংশোধনী হবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক যুগান্তকারী সংশোধন। আমরা জুলাই সনদের সীমানা ছাড়িয়েও তরুণদের জুলাই আকাঙ্ক্ষা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করবো। তবে এ জন্য দেশের প্রধান বিরোধী দলকে অবিলম্বে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে সদস্য হিসেবে নাম পাঠানোর আহবান জানাচ্ছি।

চব্বিশের আন্দোলনে আহতদের পুনর্বাসনের বিষয়ে একটি নতুন উদ্যোগের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, চিকিৎসাধীন আহতদের দুটি ক্যাটাগরিতে পুনর্বাসন করা হবে। যারা সুস্থ হয়ে কাজের উপযোগী হতে পারবেন, তাদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের জন্য একটি আলাদা ব্যবস্থা (ক্লাস) তৈরি করা হবে। আর যারা মারাত্মকভাবে আঘাত পেয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন, তাদের সার্বিক সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষার জন্য আলাদা ব্যবস্থার রূপরেখা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ফ্যাসিবাদের বিচারের বার্তা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিচার সম্পন্ন করার জন্য আইনি কাঠামোতে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে। ব্যক্তির মতোই মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার জন্য দায়ি সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। ওই সময় সংঘটিত বিভিন্ন গণহত্যার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করেন, গণহত্যাকারী ও ফ্যাসিবাদী কোনো দলকে আর বাংলার মাটিতে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। ফ্যাসিবাদের বিলোপ এবং বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্নে গোটা জাতি ও সরকার একাতাবদ্ধ।