রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ভিন্নমতের মানুষকে গুম ও অমানবিক নির্যাতনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ‘আয়নাঘর’ বা জেআইসি-এর অসংখ্য তথ্য-প্রমাণ ও আলামত গত পাঁচ আগস্টের পর দেয়াল তুলে ও পরিবর্তন এনে নষ্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তবে আলামত ধ্বংসের চেষ্টা করা হলেও এই অমানবিক নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সদর দপ্তরে অবস্থিত জেআইসি সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। এ সময় ট্রাইব্যুনালের বিচারকেরাও উপস্থিত ছিলেন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ডিজিএফআইয়ের এই গোপন কেন্দ্রে মোট ২৬টি বন্দি প্রকোষ্ঠ রয়েছে, যেখানে বন্দীদের আকুতি ও আর্তনাদ যেন কোনোভাবে বাইরে না পৌঁছাতে পারে, সেই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা রাখা হয়েছিলো। বিগত ২০০৭ সালের ১/১১ সরকারের সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পরবর্তী সময়ে হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ অনেক ভুক্তভোগীকে মাসের পর মাস ও বছরের পর বছর এই সেলে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়েছিলো।
আমিনুল ইসলাম বলেন, বিগত শেখ হাসিনার সরকার একটি অমানবিক ও চরম নিপীড়নমূলক রাষ্ট্র কায়েম করেছিলো। তারই অংশ হিসেবে এই টর্চার সেল তৈরি করা হয়। আমরা প্রতিজ্ঞা করছি, বাংলাদেশে যেন আর কখনো কোনো ধরনের আয়নাঘরের সৃষ্টি না হয়।
কাউকে অপরাধের জন্য প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে অনেকের বিচারকাজ চলমান রয়েছে এবং তদন্তে যাদেরই সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।