আমাদের সাত দাবির কোনটি দলের? সরকারকে জামায়াত আমির

জনগণের স্বার্থে ঘোষিত সাত দফা দাবির মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নিজস্ব কোনো দাবি নেই উল্লেখ করে সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা জনগণের স্বার্থে সাতটি দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। আপনারা বলুন আমাদের যে সাতটি দাবি আছে, তার মধ্যে কোনটি আমাদের দলের দাবি?

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জামায়াত ইসলামী বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

লংমার্চসহ রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লংমার্চ কি এই প্রথম হচ্ছে, রোডমার্চ-লংমার্চ এর আগে হয়নি? এর আগেও আমরা বর্তমান সরকারি দলের সঙ্গে যৌথভাবে কিংবা আলাদাভাবে দাবি আদায়ে আন্দোলন করেছি। রাজপথের কর্মসূচি জনগণের অধিকার আদায়ের একটি গণতান্ত্রিক মাধ্যম। কর্মসূচির পরিবেশ বজায় রাখা প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ধরুন, আগামীকাল আমাদের লংমার্চ। তাহলে কী আজকে আমরা ককটেল ফোটাবো, বাসে আগুন দেবো, ঢাকাকে অস্থির করবো? এটা কোনো পাগলও কী করবে?"

জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ‘সহনীয়’ বলার বক্তব্যের সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, যিনি তেলের দাম বাড়িয়েছেন, এই বৃদ্ধি কেবল তার জন্যই ‘সহনীয়’, সাধারণ মানুষের জন্য নয়। চাকরির পাশাপাশি রাইড শেয়ারিং করা তরুণদের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, লিটারে ২০ টাকা বাড়লে তার ওপর কতোটা চাপ পড়ে তা ভুক্তভোগী মাত্রই বুঝতে পারছেন। এই দাম বৃদ্ধির সর্বগ্রাসী প্রভাব সমাজে রয়েছে। 

বিরোধী দলীয় নেতা অভিযোগ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির আগে ফ্যাসিবাদ বিরোধী দলগুলো এক অবস্থানে থাকলেও শপথ অনুষ্ঠানে গণভোট অস্বীকার করার পর দ্বিমত তৈরি হয়। এর ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে বিভেদ দেখা দিয়েছে, তার দায় পুরোপুরি সরকারকেই নিতে হবে। জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন না করায় সরকার আজ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে সবাই সেবক হওয়ার কথা বললেও ভোটের পর শাসক হয়ে বসে। তাই মন্ত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর অযৌক্তিক কোনো উদ্যোগ নিলে জামায়াতে ইসলামী তার কঠোর বিরোধিতা করবে। একই সঙ্গে সংসদকে জনগণের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সাংবাদিকদের উপযুক্ত বেতন-ভাতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার আহবান জানান তিনি। 

বলেন, সাংবাদিকতাকে দেশের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। এই স্তম্ভকে ভালো রাখতে হবে। কেননা এই স্তম্ভ ভালো না থাকলে সব কিছু নষ্ট হয়ে যাবো। তখন খারাপ কাজ যারা করে তাদের দেখার মতো বা তাদের বলার মতো কেউ থাকছেনা।