বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে ‘গুপ্ত সংগঠন’ এবং জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরকে বিগত আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক আঁতাতকারী দল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, রোডমার্চ, লংমার্চ কিংবা এক দফার আন্দোলনের হুংকার দিয়ে কোনো লাভ নেই। বিএনপি রাজপথে বছরের পর বছর লড়াই-সংগ্রাম করে উঠে আসা দল, তাই তাদের আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না।
শুক্রবার দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার তোতারখিল আয়েশা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘লাইফ লাইন ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ১৯৯৬ সালেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরাসরি আঁতাত করে জামায়াতে ইসলামী টানা ১৭২ দিন হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছিল। তারা এখনো একই ধরনের বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি বিগত ৫ আগস্টের আগে পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির গোপনে ও ছদ্মবেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করত দাবি করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, কেবল সুন্দর কথা বললেই বিরোধী দলের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, তার জন্য রাজপথে জনগণের পাশে থাকতে হয়। মসজিদে বসে তালিম দেওয়া বা ওয়াজ করাতেই ইসলাম সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোট দিলে জান্নাতের টিকিট মিলবে, এমন রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে ধর্মকে ব্যবহার করা অনুচিত।
সরকারের সাফল্য ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে বর্তমান সরকার যে উন্নয়নমূলক কাজ সম্পাদন করেছে, তা অতীত ইতিহাসে বিরল। তবে বিরোধী দল সংসদে নীতিগত কথা বললেও বাইরের রাজনীতিতে সরকারের সঙ্গে অসযোগিতা করছে। তিনি যোগ করেন, নতুন করে রোডমার্চ ও লংমার্চের অহেতুক হুংকার দিয়ে সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। গত ১৭ বছর দেশের মানুষ চরম কষ্টে দিনাতিপাত করেছে। এখন দেশ যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, তখন জনগণ এ ধরনের লংমার্চ বা অস্থিরতা কোনোভাবেই পছন্দ করবে না।
একটি সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে সামাজিক ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী নেতা-কর্মীদের প্রতি ধর্মের অপব্যাখ্যা বন্ধ এবং সমাজের সার্বিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট জানান, মাদকের সঙ্গে যুক্ত বা সমাজে অশান্তি সৃষ্টিকারী ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠানটির সমাপনী পর্বে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি স্থানীয় স্বাবলম্বী নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন।