জাপানের সঙ্গে গোপন চুক্তিতে বিএনপি ভারতকে সুবিধা দিচ্ছে: এনসিপি

ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে প্রধানমন্ত্রী জাপানের সঙ্গে গোপন চুক্তির মাধ্যমে দেশের জনগণের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ভারতকে সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে বলে, অভিযোগ করেছেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, এমনটা এদেশে অতীতে হলেও এবার তা দেশের মানুষ মেনে নেবে না। 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হলে ৩০ অক্টোবরের বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করার তিনি এসব কথা বলেন।

এসমসয় এনসিপির অন্য নেতারা বলেন, সরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে তাদের সবার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী যাতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সরকার সব ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে দাবি করে তারা বলেন, ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে বিএনপি দেশকে নতুন করে লুণ্ঠনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং বর্তমান সরকারের স্থায়িত্ব এক থেকে দুই বছরের বেশি হবে না।

দেশে গণতন্ত্র ছিনতাই হয়ে যাচ্ছে বলে এনসিপির নেতারা অভিযোগ করেন, আগামী নির্বাচনে নির্বাচিত হতে তত্বাবধায়ক সরকারে এখন থেকেই বিএনপি নিজেদের লোক বসাতে শুরু করেছে।

তেলবাজ এবং বিরোধী দলের যারা দুর্নাম গাইতে পারেন তাদেরই প্রধানমন্ত্রী বিদেশে সফরসঙ্গী করছে বলে অভিযোগ এনসিপির নেতাদের। 

কর্মসূচিতে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, আগে দেখতে পেতাম সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামে, এখন দেখি মন্ত্রীরা অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামে। সন্ত্রাসীরা মন্ত্রী হয়েছে, নাকি মন্ত্রীরা সন্ত্রাসী হয়েছে—সেই প্রশ্ন জাগছে। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবি করে তিনি বলেন, সরকারের ব্যর্থতার দায় সরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর বর্তালেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বদলে প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর লন্ডনের সফরসঙ্গীদের পকেটে সবসময়ই রিটার্ন ফ্লাইটের টিকিট থাকে দাবি করে তিনি বলেন, তারা জানে দুই বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়, তাই এ সময়ের মধ্যেই তারা দেশ লুটেপুটে বিদেশে কেটে পড়তে চায়।

কর্মসূচিতে সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, সরকার সবদিকেই ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে, কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। এমনকি সরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের এলাকাতেও অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। অবিলম্বে সাথী আকতারের মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, জাপানের সঙ্গে চুক্তির সুযোগ নিয়ে কোনো দেশকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার চক্রান্ত করা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সুবিধা পেতেই সরকার সব জায়গায় দলীয় লোক বসাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এনসিপি সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ বলেন, মোহাম্মদপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে কথা বলতেও ভয় লাগে। এখানকার স্থানীয় সংসদ সদস্য থাকেন গুলশানে, আর এলাকা পরিচালনা করছে তাঁর পিএস, এপিএস ও গুণ্ডা বাহিনী। ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর ভর দিয়ে ক্ষমতায় এসে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে আবারও কলঙ্কিত করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হান্নান মাসউদ বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং চাঁদা দ্বিগুণ হওয়ার অভিযোগ তুলে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাও সুনিশ্চিত করতে পারেনি, তারা দেশের মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে দেবে? বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়েই দেশের সম্পদ লুণ্ঠনকারী বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে সরোয়ার তুষার বিএনপিকে ‘ক্ষুদে বাকশাল’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, মোহাম্মদপুরকে অপরাধের পরীক্ষাগার বানানো হয়েছে। সরকার নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোটের পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়ার চক্রান্ত করছে। গণভোট বাস্তবায়ন না করলে এই সরকার গণভোট হরণকারী কলঙ্কিত সরকার হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।