ইসির ‘কোমর সোজা করে দাঁড়ানোর’ পরীক্ষা কাল: আজাদ

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সোজা হয়ে দাঁড়াচ্ছে কি না, তা বৃহস্পতিবারের (২৯ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনের মাধ্যমেই প্রমাণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান ড. হামিদুর রহমান আযাদ।

এসমসয় ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ও আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু করা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে নিজেদের বক্তব্য ও নানা অভিযোগ জানায় ১১ দলীয় ঐক্য। 

ব্রিফিংয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আমরা ইসিকে বলেছি আপনারা যে কোমর সোজা করে দাঁড়াচ্ছেন, সেটা কাল ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণ হবে। কালকের ভোটে অনিয়ম পেলে ইসিকে বলবো তারা আমাদের আই ওয়াশ করেছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রশাসনের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, স্থানীয় ও সংসদ নির্বাচনের নানা দিক নিয়ে কমিশনের সঙ্গে কথা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ দেওয়া হলে ইসি কিছু পদক্ষেপ নিলেও বড়ো বিষয়গুলো এড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে ইউএও খায়রুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলেও শুধু কাজ থেকে বিরত রাখলেই হবে না, তাকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মাধ্যমে ভয়ভীতি ছড়ানো হচ্ছে দাবি করে সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানান এই জামায়াত নেতা। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মাঠপর্যায়ে ভোট সুষ্ঠু না হলে মনিটরিং সেল গঠন করে সরকারি অর্থ অপচয় করে লাভ নেই। তাদের আন্দোলন থামেনি উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী ৩১ তারিখ লংমার্চ রয়েছে। কালকের ভোট সুষ্ঠু না হলে দাবি আরও বাড়বে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া এক মন্ত্রীর বক্তব্যের পর ইসি স্থানীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ পরিবর্তন করায় নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

একই ব্রিফিংয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচন কমিশনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, বাংলাদেশে জাস্টিস বড়ো নাকি রাষ্ট্রপ্রধান বড়ে?

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের অনিয়ম ও প্রশাসনের ভূমিকাকে মেরুদণ্ডহীন আখ্যা দিয়ে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, কমিশনের স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার বিষয়েও ইসির সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে সিটি নির্বাচনের সময় জানতে চাইলে তারা ‘জানে না’ বলে জানায়। এছাড়া ভোটার স্থানান্তরসংক্রান্ত বিষয়েও ইসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।