শেখ হাসিনা বেঁচে থাকা পর্যন্ত অস্থিরতার চেষ্টা চলবে: তথ্য উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলতে পারে এবং সরকার তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জীবনের কঠিন বাস্তবতার কথা বিবেচনা করে সরকার সহানুভূতিশীল হয়েই ইতিমধ্যে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে উল্লেখ করে আন্দোলনকারীদের দ্রুততম সময়ে রাজপথ ছেড়ে কর্মস্থলে ফেরার আহবান জানান তিনি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এক নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে দেশের চলমান পরিস্থিতি, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সাধারণত পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পাঁচ বছর পরপর পর্যালোচনা করা হয়। সে অনুযায়ী ২০২৬ সালে নতুন করে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা ছিলো না। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করে সরকার আগেই নতুন মজুরি বোর্ড তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, আমাদের গার্মেন্টস কর্মীদের জীবন কঠিন হয়ে উঠছে, এই মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার বিষয়টি আমরা বুঝি। সরকার সহানুভূতিশীল হয়ে আগেই কমিশন গঠন করায় আন্দোলনের মূল যে দাবি, তা তো আসলে সমাধান হয়ে যাওয়ার কথা।

আন্দোলনে বহিরাগতদের উসকানি ও সহিংসতার অভিযোগ তুলে উপদেষ্টা বলেন, আন্দোলনকারীদের কিছু অংশের মধ্যে যে সহিংস আচরণ দেখা গেছে, তা কোনোভাবেই প্রকৃত পোশাকশ্রমিকদের হতে পারে না। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সক্ষমতা না থাকলেও তাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ রয়েছে এবং সেই অর্থ ব্যয় করে তারা বিভিন্ন স্থানে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তে থাকা অশুভ শক্তির যোগসাজশের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি কেবল ডিসেম্বরকেন্দ্রিক নয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর শেখ হাসিনা যেমন বলেছিলেন ‘সরকারকে এক দিনও শান্তিতে থাকতে দেবেন না’, সেই মানসিকতা থেকে তিনি বেঁচে থাকা পর্যন্ত এই চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

আন্দোলন মোকাবিলায় সরকারের নীতি পরিষ্কার করে ডা. জাহেদ বলেন, বাংলাদেশের পুলিশ আর কখনোই ‘হাসিনার পুলিশের মতো’ হবে না। সরকার আগের সরকারের মতো দমন-পীড়নের পথ অনুসরণ করবে না।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকে আনুপাতিক হারে বল প্রয়োগের অধিকার রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু জায়গায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলপ্রয়োগের যে অভিযোগ দেখা গেছে, সরকার নিশ্চিত করতে চায় যেন সাধারণ মানুষের ভয় ও ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে।

এলপিজির দাম বাড়ানো প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তথ্য উপদেষ্টা জানান, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় সরকারের ভতুর্কি দেওয়ার সামর্থ্য দিন দিন কমে আসছে। যার ফলে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব জনজীবনে পড়ছে।

তিনি বলেন, সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করায় শ্রমিকদের বিষয়টি বোঝানো সম্ভব হবে। প্রকৃত শ্রমিকেরা মাঠে না নামলে আন্দোলনকে ঢাল করে তৃতীয় কোনো পক্ষের পক্ষে দেশে অস্থিরতা তৈরি করা সম্ভব হবে না।