টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফ্লপ মাস্টারদের সাতকাহন

আগা গোড়া ফ্লপ টিম হয়েই বিশ্বকাপ থেকে বাড়ি ফিরেছে বাংলাদেশ। কাজের কাজটা করতে পারেননি কেউ।

তবে এবারের বিশ্বকাপে বড় দলের অনেক রথি-মহারথিরাও ফ্লপ করেছেন, ব্যাটে রান নেই। অনেক ক্ষেত্রে দল জিতলেও তাতে রাখতে পারছে না যথেষ্ট ভূমিকা। 

ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের আনুষ্ঠানিকতা মানতে চাননি। তাই বিশ্বকাপের দল থেকে নাম সরিয়ে নিতে হয়েছিলো দক্ষিন আফ্রিকার উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি কককে। 

পরে অবশ্য সব মেনে নিয়ে খেলায় ফিরেছেন। ডামাডোলের মধ্যে একটা দিক অবশ্য চাপা পড়ে গেছে। ওপেনার ডি কক এই বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে তেমন সুবিধা করতে পারেননি মোটেও। 


শনিবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিগ ম্যাচটার আগের পরিসংখ্যান বলছে, তিন ইনিংসে ব্যাট করে মাত্র ১১ গড়ে রান তুলতে পেরেছেন। স্ট্রাইকরেটটাও টি-টোয়েন্টি ফরমেটের সাথে যায় না। 

অবশ্য টি-টোয়েন্টির বাজারে সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে স্বীকৃত ক্রিস গেইলের হাল এবারে আরো খারাপ। টপ অর্ডারে ব্যাট করছেন, কিন্তু নামের প্রতি করতে পারছেন না সুবিচার। 

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শনিবারের ম্যাচটার আগে গড়ে মোটে সাড়ে ৭ রান করেই সাজঘরের পথ ধরেছেন ক্রিস গেইল। অবশ্য ওরা পুরো ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটাই এবারে ফ্লপ, বাংলাদেশ ছাড়া আর কোনো দলের সাথে সুবিধা করতে পারেনি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। 


গেইল কিছুটা সাত্ত্বনা খুঁজে নিতে পারেন স্টিভ স্মিথের কাছ থেকেই। জ্যামাইকান ব্যাটারের মতো ধর মার কাট স্টাইলের ব্যাটিং না করলেও যে কোনো ফরমেটে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অর্ডারের অন্যতম ভরসা তো স্মিথই। 

তবে, এবারের আসরে শনিবারের ম্যাচের আগে চার ইনিংস মিলিয়ে ৬৪ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। স্ট্রাইক রেটের হিসেব বলছে, বিশ ওভারের খেলায় এমন ধরনের ব্যাটিং দলকে বিপদে ফেলতে বাধ্য। 


নিউজিল্যান্ডের ক্যাপ্টেন কেন উইলিয়ামসনের কথাই বা বাদ যাবে কেন। তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। কিন্তু ক্যাপ্টেন কোটায় তো আর কাউকে বাহবা দেয়ার উপায় নেই। 

কারণ ব্যাট হাতে নিষ্প্রভ উইলিয়ামসন চার ম্যাচে কেবল ৮৬ রান স্কোরবোর্ডে জড় করেছেন। রানের চাকাও ঘুরেছে বড় ধীর গতিতে।  


ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেলের নামটাও তো ফ্লপের তালিকা থেকে বাদ পড়ার কথা নয়। কারণ চার ম্যাচে যে ওর মাত্র সাত রান। গড়ে দুই করেও রান তুলতে পারেননি। 

যদিও নেমেছেন লেজের দিকে, ততক্ষনে ম্যাচ ফসকে গেছে হাত থেকে। কিন্তু ওই পজিশনে নেমেই তো রাসেল বহুমার হয়েছেন ম্যাচ উইনার। 


এবারে আর পারলেন না। দলটাও সেমিফাইনালের বহু আগেই হারিয়েছে পথ। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের এমন বিদায় ক্রিকেট ভক্তদের আফসোস তো বাড়াবেই। 


একাত্তর/আরএইচ