কাতারে নেইমারদের কপালে সিঁকে ছিঁড়বে কি?

পেরিয়ে গেছে গুণে শুণে পাক্কা ২০ বছর। যে ফুটবলে ওদের নাওয়া-খাওয়া, বাঁচা-মরা সেই বিশ্বকাপের আরেকটা ট্রফি ওঠেনি ব্রাজিলের ঘরে।

ছয় নম্বর শিরোপা জয়ের মিশনে এবারে সেলেসাওদের কাতার যাত্রা। নেইমারদের কপালে সিঁকে ছিড়বে কি? বাস্তবতা বলছে, বেশ কিছু নিয়ামক এবারে আছে ব্রাজিলের পক্ষে।

চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞা, সাথে স্কিলের মিশেল। আছে ঐতিহ্যের চাপ। পেলে-রোনালদো-কাফুদের উত্তরসূরিরা এখনো ঘরে তুলতে পারেনি ছয় নম্বর বিশ্বকাপ। 

সাম্বা ফুটবলের লিগ্যাসি তাতে কি বজায় থাকে? চার বছর ঘুরে কাতারে এবারে বসছে মহারণ। সেই ২০০২ সালের পর আর যেটা হয়নি, সেটা এবারে হবে কী? 

বেশ কিছু বিষয় এবারে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের পক্ষেই বাজি ধরাচ্ছে। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের হিটওয়েভ। 

যে সময়ে বিশ্বকাপের আয়োজন হচ্ছে, তখন কাতারের স্বাভাবিক তাপমাত্রা হবে প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেটা নিয়ন্ত্রণে আয়োজন করছে আয়োজক দেশের সরকার। 

কিন্তু প্রকৃতির বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে কতোটা সফল হওয়া যাবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে যথেষ্ট। তাই যদি হয় তবে সবচেয়ে বড় বিপদে পড়বে ইউরোপিয়ান ফুটবলাররা। 

আর কে না জানে, ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ে মূল বাধা ইউরোপিয়ান দেশগুলো। ২০০২-এর পর ইউরোপেই গেছে সব ট্রফি। 

আর মনে রাখা ভালো, ওই একবারই এশিয়াতে হয়েছে ফিফা বিশ্বকাপ, যেটা ঘরে তুলেছে ব্রাজিলিয়ানরা।


বিশ্বকাপে ইউরোপের জয় জয়াকারের মূল কারণ, ওদের লিগের মান। কিন্তু কোভিড মহামারীর কারণে পুরো সিস্টেমেই নেমেছে ধ্বস। 

খেলোয়াড়দের আয় কোমেছে। আর এসবের প্রভাব যদিও ন্যাশনাল টিমে পড়ে তবে ল্যাটিন আমেরিকারা সুযোগটা কাজে লাগাতে নিশ্চয় ভুল করতে না। 

কনমেবল অঞ্চলের মধ্যে ব্রাজিল যে সেরা অবস্থানে আছে তাতে তো সন্দেহ নাই কোনো। বাছাই পর্বে নিজেদের গ্রুপে তারা তো শীর্ষে ছিলই, ১৬ ম্যাচের ১৩টাতে জিতেছে সেলেসাওরা। 

মাত্র ৫টা গোল হজম কোরে দিয়েছে ৩৬টা। উরুগুয়ে, চিলি, প্যারাগুয়ে আর বলিভিয়ার বিপক্ষে বড় জয় তাদের। 

স্কোয়াডের প্রতিটা কোনায় প্রতিভাবান প্লেয়ার। নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে কাজের কাজটা হয়তো হয়ে যাবে এবারই। 

তবে এসবের বাইরে ফুটবল বোদ্ধাদের নজর গ্রুপ ইকুয়েশনে। অঘটন না হলে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের সাথেই দেখা হবে ব্রাজিলের। রিসেন্টলি কিছুটা ব্যাকফুটে। 


ওদের টপকে সেমিতে গেলেই মিলতে পারে আর্জেন্টিনার দেখা। লিওনেল মেসিদের স্বপ্ন ভেঙে বাকি কাজটা ব্রাজিল কোরে দেখাতেই পারে। 

কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের শোধ নিয়ে দিতে পারে বিশ্বকাপের মহামঞ্চে। 

আরেকটা ভাইটাল রোল প্লে কোরতে পারেন কোচ তিতে। সেলেসাওদের সাথে বড় সময় কাজ করছেন তিনি।

বিশ্বকাপ নিয়ে নিশ্চিয় একটা কংক্রিট মাস্টার প্ল্যান সাজিয়ে ফেলেছেন এতোদিনে। সেটা নিখুঁত হলে ব্রাজিলিয়ানরা আরও একবার বিশ্ব জয়ের আনন্দ করতেই পারে।