মেসি পাঁচ, আর্জেন্টিনা পাঁচ। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার এক ম্যাচে পাঁচ গোল করার কীর্তি গড়লেন এই আর্জেন্টাইন ও পিএসজির সুপারস্টার।
লায়োনেল মেসিই এখন একমাত্র ফুটবলার যার আছে জাতীয় দল ও ক্লাবের হয়ে এক ম্যাচে পাঁচ গোল করার রেকর্ড। প্রীতি ম্যাচে এস্তোনিয়াকে নিয়ে একাই খেলেছেন এলএমটেন।
কতবার যে আমি তোমোকে স্পর্শ করতে গিয়ে গুটিয়ে নিয়েছি হাত- সে কথা জানেন ঈশ্বর। উল্লাসে নিজেকে নিক্ষেপ করবো তোমার উদ্দেশ্যে মনে মনে কল্পনা করেছি কতবার, সেই কথাও জানেন আমার ঈশ্বর।
আমার ঈশ্বর জানেন- আমার মৃত্যু হবে তোমার জন্য। তারপর অনেকদিন পর একদিন তুমিও জানবে, আমি জন্মেছিলাম তোমার জন্য।
দেশের জার্সিতে একটা ট্রফির জন্য মেসির এই আর্তনাদ ঠিকই নিশ্চয়ই জানতো তার ঈশ্বর। ক্লাব পর্যায়ে কী নেই তার। কিন্তু হায় দেশের জার্সিতে এলএমটেন যেন বড্ড অসহায়। ক্যারিয়ার সায়াহ্নে লোকের মুখে কলোরব আজও আর্জেন্টিনার হতে পারলোনা এই তারকা ফুটবলার।
তবে সেসব আজ হয়েছে বাসি। একটা নয় আর্জেন্টিনার মেসির হাতে আজ দুখানা ট্রফি। গেলো বছর বুক চিতিয়ে দলকে কোপা জিতিয়ে আগেই দিয়েছিলেন আভাস।
ফুটবল বিশ্বকে বলেছিলেন এতো কেবল শুরু। নতুন বছরে তার হাত ধরে আর্জেন্টিনার ঘরে এলো ঐতিহ্যবাহী ফিনালিসিমা শিরোপা।
টেনিস তারকা ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা বলেছিলেন মেসির খেলা দেখা অনেকটাই ভিডিও গেমের মত। সে এদিক সেদিক হাঁটাহাঁটি করে আর সুযোগ পেলেই ম্যাজিক তৈরি করে।
ওসাসুনার আল সদর স্টেডিয়ামে যেন বিশ্ব দেখলো ফুটবল আর লিও মেসিরএমনই এক ম্যাজিক্যাল রোম্যান্টিসিজম।
স্কোর শিটে তাকালে ভাবতেই পারেন আপনি হিপনোটাইটস। পাঁচ গোলের পাশেই যে মেসির নাম। জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথমবার লিও মেসির ফাইফার।
এর আগে ২০১২ সালে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনার জার্সিতে লেভারকুসেনের বিপক্ষে পাঁচ গোল করেছিলেন মেসি।
অর্থাৎ লিও মেসিই এখন পৃথিবীর একমাত্র ফুটবলার যার কিনা দেশ ক্লাব দুই অধ্যায়েই আছে পাঁচ গোল করার অনন্য সাধারণ এই কীর্তিটা।
পাঁচ গোল করে ৮১ বছর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর্জেন্টিনার তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এক ম্যাচে পাঁচ গোলের এলিট ক্লাবে জয়েন করলেন মেসি।
যার শুরুটা করেছিলেন ১৯২৫ সালে ম্যানুয়েল সিওয়ানে। শুধু কী তাই এই ম্যাচ দিয়েই তো আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় হাঙ্গেরিয়ান কিংবদন্তি পুসকাসকে ছাড়িয়ে চারে উঠে গেলেন এলএমটেন ।
আরও পড়ুন: মেসিতে বিধ্বস্ত এস্তোনিয়া, টানা ৩৩ জয় আর্জেন্টিনার
২৮ বছর পর কোপা এসেছিলো ঘরে, ২৯ বছর পর ফিনালিসিমাও এলো তারই হাত ধরে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপটাও কিন্তু এলো বলে। অনেক তো দোল দেয়া হলো ফাগুন এসেও ডেকে গেলো, মেসি হেটারদের এবার ঘুম ভাঙবে তো?