ইউরো ফুটবলের অভিজাত আসর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে ভীষণ দোটানায় পড়েছে উয়েফা। কারণ, পূর্ব নির্ধারিত তুরস্কের ইস্তানবুল থেকে ফাইনালটি ইংল্যান্ডের ওয়েম্বলিতে নেয়ার দাবি জোরালো হয়ে উঠায় বিপদে পড়ে গেছে উয়েফা।
সব কিছু ঠিকঠাকই ছিলো। গেলো ৭ মে হঠাৎ করেই দৃশ্যপট বদলে যায়। করোনা সংক্রমণ রোধে যুক্তরাজ্য ভ্রমণে নিষিদ্ধের তালিকায় ঢুকে যায় তুরস্ক। দেশটিতে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার পরিপেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে জনসন সরকার।
আর এতেই দেখা দিয়েছে যত বিপত্তি। যদিও ইস্তানবুলের আয়োজকরা ম্যাচ আয়োজনে নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। জৈব সুরক্ষা বলয়ের নিশ্চয়তাও রয়েছে। মাঠে পাঁচ হাজার দর্শকের উপস্থিতি নিশ্চিতে মিলেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সবুজ সংকতেও।
কিন্তু, এবারের ফাইলাল অল ইংলিশ ফাইনাল হওয়ায় লন্ডনের ঐতিহাসিক ওয়েম্বলিতেই খেলাটি নিয়ে যাবার পক্ষে ম্যানচেস্টার সিটি ও চেলসির সমর্থকরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের দাবিও জোরালো হচ্ছে। কারণ দিনকে দিন পরিস্থিতি বদলে তাদের পক্ষেই যাচ্ছে।
তুরস্কের করোনা পরিস্থিতির কারণে ফাইনালটি নিজেদের মাটিতে করার পক্ষে মত এসেছে দুই দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে। ফলে আগামী দুই একদিনের মধ্যে এনিয়ে একটি রফা করতে হবে উয়েফাকে। তবে পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ওয়েম্বলিতেই হবে ফাইনাল।
এনিয়ে ইংল্যান্ড ফুটবল এসোসিয়েশন ও উয়েফার মধ্যে একটি বৈঠক হবার কথা রয়েছে সোমবার (১০ মে)। এই বৈঠকের এজেন্ডা একটাই, সেটি হলো ফাইনালের ভেন্যু পরিবর্তন। ইংলিশ পক্ষ ওয়েম্বলিতে ম্যাচটি নিতে তৈরি হলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে উয়েফা।
যুক্তরাজ্যের ভ্রমণ তালিকার ‘রেড’ জোন তুরস্ককে যোগ করার কারণে ম্যান সিটি ও চিলসির সমর্থকরা দেশটিতে সফরে যেতে পারবেন না। গেলেও ফেরার পর সরকারের নির্ধারিত স্থানে ১০ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে সবাইকে।
সমস্যা আরো আছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার চ্যাম্পিয়ন্সশীপের প্লে-অফ হবার কথা ২৯ এপ্রিল। একই দিন নির্ধারিত আছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের জন্য। যদি ইংলিশ কর্তৃপক্ষ ম্যাচটির জন্য অন্য কোন স্টেডিয়ামের ব্যবস্থা করতে না পারে, তাহলে ওয়েম্বলিতে ফাইনাল হবে না।
ব্রিটিশ সরকারে কয়েকজন মন্ত্রী এরিমধ্যে ফাইনাল ওয়েম্বলিতে আনার পক্ষে জোরালো মত দিয়েছেন। তবে গোটা পরিস্থিতি এখনো পরিস্কার না। আর শেষ পর্যন্ত যদি ভেন্যু বদল না হয় তাহলে ইস্তানবুলে কামাল আতাতুর্ক স্টেডিয়ামেই হবে ম্যান সিটি-চেলসির দ্বৈরথ।