মেয়েদের জয়ে দেশ যখন আনন্দে ভাসছে, তখন এর ব্যতিক্রম হয়নি ফাইনালে দলের হয়ে দুটি গোল করার কৃষ্ণার পরিবারেও। কৃষ্ণার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার উত্তর পাথালিয়া গ্রামেও এখন উথালপাথাল আনন্দ। তবে থেকে গেছে একটি আক্ষেপ। বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় মা খেলা দেখতে পারেননি। তবে বাবা খেলা দেখেছেন অন্য গ্রামে গিয়ে।
কথা হয় হিমালয়ের চোখে চোখ রেখে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের চিহ্ন এঁকে দেওয়া কৃষ্ণার রত্নগর্ভা মা নমিতা রানী সরকার ও বাবা বাসুদেব সরকারের সঙ্গে।
মা নমিতা বলেন, বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় খেলা দেখতে পারিনি। খেলা শেষ হওয়ার পর প্রতিবেশীরা এসে খবর দিয়েছে। তিনি কৃষ্ণাসহ পুরো দলের জন্য দেশবাসীর আছে আশীর্বাদ চেয়েছেন।
বাবা বাসুদেব সরকার বলেন, মেয়ে যখন প্রথম দিকে মাঠে খেলতে যেতো, তখন অনেক কটুকথা সহ্য করতে হয়েছে। তবে যারা সেদিন সমালোচনা করেছিলেন, তারাই এখন প্রশংসা করছেন- এটা বড়ো আনন্দের।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় আমি পাশের গ্রামে গিয়ে খেলা দেখেছি। এলাকার মানুষও খুব উপভোগ করেছে। অনেকেই আনন্দে শুভেচ্ছা জানাতে আসছে। কৃষ্ণা যেন দেশের জন্য আরও গৌরব বয়ে আনে সবাই সেই আশীর্বাদ করবেন।
এদিকে কৃষ্ণার মাকে কিছুদিন আগে রত্নগর্ভা সম্মাননা দেয়া হয়েছে। কৃষ্ণা শুধু গোপালপুর কিংবা টাঙ্গাইল জেলার নয়, সারা দেশের গর্ব। বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তার উত্থান শুরু হয়। দেশে ফেরার পর তাকে একটি সংবর্ধনা দেয়া হবে -এমনটি জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
উল্লেখ্য, সোমবার নেপালের কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে ৩-১ ব্যবধানে জিতে বাংলাদেশকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা এনে দেন মেয়েরা। দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরে বাংলাদেশ ভাসছে আনন্দের জোয়ারে। কৃষ্ণা রাণী সরকারের জোড়া গোলে হিমালয় কন্যারা পরাজিত হয়।
একাত্তর/এসি