ফিফার সেরা গোলের স্বীকৃতি পেলো রিচার্লিসনের গোল। সার্বিয়ার বিপক্ষে গোলটিকেই কাতার বিশ্বকাপের ‘গোল অব দ্য টুর্নামেন্ট’ হিসেবে বেছে নিয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি।
ওই গোলটির ক্ষেত্রে অবশ্য অবদান ছিল ব্রাজিলের লেফট উইঙ্গার ভিনিসিয়াস জুনিয়রেরও। বাঁ প্রান্ত দিয়ে বক্সে এসে বুটের আউটসাইড দিয়ে অসাধারণ পাস বাড়িয়েছিলেন তিনি।
বলটি রিসিভ করে কিছুটা উপরে উঠিয়ে ফেলে রিচার্লিসন। কিন্তু তারপর গোটা স্টেডিয়ামকে অবাক করে অসাধারণ সাইট ভলি মেরে দলকে ২-০ ফলে এগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
ম্যাচের ৭৩ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে ভিনিসিয়ুসের পাস বাঁ পায়ে রিসিভ করে বলটা মাথার ওপর তোলেন রিচার্লিসন। এরপর শরীর ঘুরিয়ে ডান পায়ে বাইসাইকেল কিক নেন।
আর এটিই এবারের সেরা গোল। কাতার বিশ্বকাপের সেরা গোল কে করেছেন সে নিয়ে একটি জরিপের আয়োজন করেছিলো ফিফা। ১০টি গোল থেকে সেরাটি বাছাই করতে বলা হয়।
বিশ্বকাপের সেরা গোলের দৌড়েছিলেন নেইমার এবং এমবাপ্পেও। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত দক্ষতায় ১০৫ মিনিট করা নেইমারের গোলটি ছিলো প্রথম দিকেই।
আর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে এমবাপ্পের দুর্দান্ত ভলিতে করা দ্বিতীয় গোলটি জনগণের অত্যন্ত পছন্দ হয়েছিল। কিন্তু শেষ হাসি হেসেছেন রিচার্লিসনই।
রিচার্লিসনের বয়স মাত্র ২৫ বছর। ৯ নম্বর জার্সি গায়ে ব্রাজিলের হয়ে এর আগেও অনেক ফুল ফুটিয়েছেন তিনি। চলতি মৌসুমে সাত ম্যাচে তাঁর গোল সংখ্যা ৯।
ব্রাজিলের এই তরুণ তুর্কি কিন্তু সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মাননি। বরং তাঁর ছেলেবেলা দারিদ্রে দীর্ণ। গরিব পরিবারে চরম অর্থকষ্টের মধ্যে বেড়ে উঠতে হয়েছে ব্রাজিলের এই নতুন নায়ককে।
রিচার্লিসনের জন্ম ১৯৯৭ সালে ব্রাজিলের নোভা ভেনেসিয়া শহরে। বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রি। মা আইসক্রিম বিক্রি করে সংসারের খরচ চালাতেন।
রিচার্লিসনরা পাঁচ ভাই-বোন। বড় হিসাবে তাঁর উপরে দায়িত্ব বরাবরই ছিল বেশি। সংসারে নিত্য অভাব, কোনও কোনও দিন আধপেটা খেয়েও শুয়ে পড়েছেন রিচার্লিসন।
সাত বছর বয়সে তাঁর বাবা তাঁকে প্রথম এনে দিয়েছিলেন ফুটবল। বাবার দেয়া সেই উপহার পাথেয় করেই বড় হয়েছেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই ফুটবল খেলতেন চুটিয়ে।
রিচার্লির বাবা তাঁকে ফুটবলার হিসাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। অভাবের মধ্যেবো ফুটবলকে তিনি তাই হারিয়ে যেতে দেননি।
রাস্তায় খেলতে খেলতে এক সময় রিচার্লিসনের পায়ের জাদু চোখে পড়ে স্থানীয় এক শিল্পপতির। সেখান থেকেই ইতিহাসের শুরু।
সেই শিল্পপতি কিশোর রিচার্লিকে নতুন এক জোড়া বুট কিনে দিয়েছিলেন। নিয়ে গিয়েছিলেন ‘আমেরিকা মিনেইরো’ নামের একটি দ্বিতীয় ডিভিশনের ক্লাবে।
সেখান থেকেই রিচার্লিসনের উত্থান শুরু। পরে ডাক পান ইংল্যান্ডের ওয়াটফোর্ড ক্লাবে। আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।
ওয়াটফোর্ড থেকে এভার্টন ক্লাবে যান রিচার্লি। ২০২২ সালে তাঁকে ৬ কোটি পাউন্ড খরচ করে কিনে নিয়েছে টটেনহ্যাম।