বার্সেলোনায় নিজেকে সেরাদের সেরা প্রমাণ করলেও আর্জেন্টিনার জার্সিতে সেটি করা হয়ে উঠেনি লিওনেল মেসির।
কোপা আমেরিকায় তীরে এসে মেসির তরী ডুবেছে বেশ কয়েকবার। এবার আর্জেন্টিনার গ্রুপ এ-তে আছে আসরের আরও দুই হট-ফেভারিট উরুগুয়ে আর চিলি।
তাদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এবারে কতোটা পথ যাওয়া যায়, মেসিরা কোপায় ২৮ বছরের শিরোপা খরা কাটাতে পারে কিনা, সেটাই দেখার অপেক্ষায় ফুটবল দুনিয়া।
করোনা মহামারিতে লাখো কবরের সাথে মাটিচাপা পড়েছে কোটি মানুষের স্বপ্ন। জীবনের রং যখন এমন ধূসর, তার মাঝে ফুটবল উৎসব তো মানায় না।
তাই তো কোপা আমেরিকার খেলতে আপত্তি তুলেছিলো অনেকেই। ফুটবলাররা একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করে দাঁড়াতে চেয়েছিল এই আয়োজনের বিপক্ষে।
আরও পড়ুন: রোলাঁ গেরোতে হেরে জীবনের কথাই শোনালেন রাফা
কিন্তু দিনশেষে সেই সিদ্ধান্ত আর ধরে রাখা যায়নি। লাতিন মহাদেশে কোভিডের এই অন্ধকারে দুই চোখ আলোয় ভরতেই যেন আসছে এবারের কোপা আমেরিকা।
কোপা খেলতে অনেকেই আপত্তি জানালেও ব্যতিক্রম ছিল আর্জেন্টিনা। সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করলেও শেষ পর্যন্ত ওরা থাকছে করোনা আক্রান্ত আর মৃত্যুতে বিশ্বের তিন নম্বর দেশ ব্রাজিলে।
মেসির আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকার গ্রুপ এ-তে। কনমেবল সাউথ জোনে ওদের সাথে আছে বলিভিয়া, উরুগুয়ে আর প্যারাগুয়ে আর চিলি।
এই গ্রুপেই আছে সবচেয়ে বেশিবার ট্রফি জয়ী উরুগুয়ে। তবে ওদের চেয়ে বেশি নজর তো থাকবে আর্জেন্টিনার ওপর।
নামের পাশে ১৪টা ট্রফি থাকলেও ১৯৯৩ সালের পর আর কোপা মিশন সফল হয়নি আলবি সেলেস্তেদের। তার মানে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিদায়ের পর কোপার ট্রফি আর ওঠেনি ঘরে।
আরও পড়ুন: কোপা: কতদূর যাবে খেলতে না চাওয়া নেইমাররা?
সবচেয়ে বেশিবার কোপা আমেরিকায় খেলার অভিজ্ঞতা আর্জেন্টিনার। নিজেদের ৪৩ নম্বর মিশনে নামবে লিওনেল মেসি আর লিওনেল স্কালোনির দল।
ওরা এই আসরে ফাইনালে উঠেছে আরও। চারবার দলে মেসি থাকলেও প্রতিবারই ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। হতাশার গেরো ছুটবে কি এবারে?
এ গ্রুপের পাঁচ দলের চারটাই পাবে নক-আউট স্টেজের টিকেট। সেখানেই জমবে আসল লড়াইটা। তবে টেবিলের ওপরের দিকে থাকলেই মিলবে সহজ প্রতিপক্ষ।
তাই প্রতি ম্যাচেই থাকবে জয়ের টার্গেট। সেক্ষেত্রে আপাতত মেসিদের চিন্তার কারণ হতে পারে চিলি আর উরুগুয়ে। চিলির বিপক্ষে শেষ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ওরা জিততে পারেনি।
কোপাতেও তো তীরে গিয়ে তরী ডুবেছে আলবিসেলেস্তেদের। আর সফলত দল উরুগুয়ে ২০১১ সালের পর আরও একটা ট্রফি জিততে তো মরিয়া হয়েই আছে।
একাত্তর/আরএ