কুমিল্লায় জয় করা ফেডারেশন কাপ শিরোপা জয়ের উৎসব ঢাকায় নিজেদের উঠোন পর্যন্ত টেনে নিয়েছে মোহামেডান। দেশের ফুটবলে দারুণভাবে ফিরে আসা সাদা-কালো দুর্গে হয়েছে বাঁধনছাড়া উৎসব। ক্লাবের সংগঠকরা বলছেন, মোহামেডানের এই অর্জন দেশের ঝিমিয়ে পড়া ফুটবলে জাগরণের ডাক দিচ্ছে। খালিদ জামিলের রিপোর্টে বিস্তারিত।
বাংলার ফুটবলে আবহমান কালের ঐতিহ্য মোহামেডানের নিকনেম- সাদা-কালো। তবে যে সন্ধ্যায় ওদের ঘরে প্রায় এক দশক পরে এলো শিরোপার আলো, তখন রঙিন হলো সব। রাত হয়েছে গভীর থেকে গভীরতর, তবে ঢাকার ক্লাবপাড়াকে জাগিয়ে রেখেছে ক্লাব মোহামেডান।
চাইলেই এমন একটা গল্প লেখা যায় না। বিজয়কেতন তখনই ওড়ে কেবল যখন ওরা উড়তে শেখে সদলবলে। ফেডারেশন কাপের ফাইনালে মোহামেডানের এই জয়ের পেছনে মূল ম্যাজিকের নাম- টিম ওয়ার্ক।
কুমিল্লায় জ্যামপ্যাকড স্টেডিয়াম, আর সারা দেশে টিভি সেটের সামনে দর্শকরা সাক্ষী, কী দারুণ একটা ম্যাচ উপহার দিয়েছে ওরা। কতোদিন পর বাকি সব পেছনে ফেলে টক অব দ্য কান্ট্রি হয়েছে ফুটবল, কতো দিন পর এমন উৎসবের উপলক্ষ্য ঘরোয়া ফুটবলের একটা ফাইনাল।
আরো একটা আবাহনী মোহামেডান ম্যাচ। চ্যাম্পিয়ন হয়ে সাদাকালোরা এখন চাইছে সকাল বেলার পাখি হতে, যে সবার আগে কুসুম বাগে জাগবে নতুন করে, তারপর জাগিয়ে তুলবে দেশের ফুটবলের বাকিদের।
মোহামেডানের এই জাগরণ একদিনেই হুট করে আসেনি। মাঠ আর মাঠের বাইরের খারাপ সময় কাটিয়ে তারা ঘুরে দাড়িয়েছে একটু একটু করে। আর তাই এই অর্জন হারিয়ে যাওয়ার নয় সহসাই। কর্মকর্তারা বলেছেন, এটি কোন ফ্লুক নয়।
উদয়ের পথে আজ শোনা যাচ্ছে মোহামেডানের বাণী। সাদা-কালোর এই ঐতিহ্য জানান দিচ্ছে, ওরা হয়তো পিছিয়ে পড়তে পারে, কিন্তু কখনো হারিয়ে যাওয়া নয়। ফুটবলকে বাঁচা এই যাত্রায় সামিল হোক বাকিরাও।
একাত্তর/এআর