অবশেষে থামলেন ফুটবলের ‘অতিমানব’ ইব্রাহিমোভিচ

অবশেষে ক্লান্ত হলেন বেঞ্জামিন বাটন খ্যাত জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। ৪১ বছর বয়সে ফুটবলকে বিদায় বললেন এই সুইডিশ স্ট্রাইকার। সান সিরোতে রাজকীয়ভাবে বিদায় জানানো হলো এই এসি মিলান তারকাকে; যিনি নিজেকে বলছেন সুপার হিউম্যান বা অতিমানব। 

নিজেকে বেঞ্জামিন বাটন দাবি করা কিংবা তাকে ছাড়া অর্থহীন ফুটবল বিশ্বকাপ; কখনো আবার নিজের নামের ট্রেডমার্কের রেজিস্ট্রেশন করিয়ে ফেলা। এমনই এক ক্যারিশম্যাটিক ক্যারেক্টার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। তাকে ভালোবাসুন কিংবা না বাসুন ভুলে থাকতে পারবেন না।

ইব্রা মানেই সবার ভাবনা শেষ আর তার ভাবনা শুরু, সবাইকে চমকে দেয়াতে বরাবরই সিদ্ধহস্ত এই সুইডিশ কিং। অবসরের পাঁচ বছর জাতীয় দলে ফেরা। অনেকেই যখন ফুটবলকে ছাড়া কথা ভাবেন সেই বয়সে মাঠে দাপিয়ে বেড়ানো। ইব্রার কাছে যেন নাথিং ইজ ইমপসিবল। 

২০১১ সালে এসি মিলানকে লিগ শিরোপা উপহার দেয়া ইব্রাহিমোভিচ দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরে আসেন ২০১৯ সালে। মৌসুমে শেষে মিলানকে বিদায় জানাবেন অনুমেয়ও ছিলো, তবে সবাইকে অবাক করে ফুটবলকেই বলে দিলেন আলবিদা। 

অবশেষে ৪১ বছর বয়স, ২৪ বছরের ক্যারিয়ার, ৯টি ক্লাব, ৯৮৮টি ম্যাচ, ৫৭৩টি গোল ৩২ ট্রফি; ইব্রা যুগের অবসানের গল্প লিখলো তারই প্রিয় সান সিরো। প্রিয় মানুষদের বিদায় বলতে গিয়ে ফুটবলের এই জাদরেল হিরোর গলাও ধরে আসে, লুকাতে পারেন না নিজেকে। তিনি কাঁদেন সবাইকে কাঁদান। কারণ এবার যে তাকে সত্যিই থামতে হচ্ছে।

১৯৯৯ সালে নিজ দেশের ক্লাব মালমো এফসি দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন ইব্রা। এরপর আয়াক্স, জুভেন্টাস, ইন্টার মিলান, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, বার্সালোনা, পিএসজি, গ্যালাক্সির মতো ক্লাবে খেলেছেন তিনি। ৯৮৮ ম্যাচে ৫৭৩ গোল করেছেন সাবেক ম্যানইউ ও বার্সা তারকা।

২০২০ সালে এসি মিলানে যোগদান করে এই ক্লাবেই ফুটবল থেকে বিদায় নিলেন এই তারকা। যদিও ২০১০-১১ মৌসুমে ধারে খেলেছিলেন এই ক্লাবে। ইতালিয়ান ক্লাবটির হয়ে ১৬৩ ম্যাচে গোলও করছেন ৯৩টি। বিদায়বেলায় মিলান সমর্থকের সামনে চোখ ছলছল করছিল ইব্রার।

ইব্রাহিমোভিচ বলেন, প্রথমবার যখন আমি মিলানে এসেছিলাম, তখন আপনারা আমাকে আনন্দ দিয়েছিলেন। দ্বিতীয়বার আপনারা আমাকে ভালোবাসা দিয়েছেন। আমার হৃদয় থেকে আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। এখন ফুটবলকে বিদায় জানানোর সময়, তোমাদের নয়।

সময় কি ভীষণরকমভাবে বদলে যায়। একদিন বেঞ্জামিন বাটনেরও বয়স বাড়ে, চোটের সাথে লড়তে লড়তে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তিনিও লেখেন শেষের কবিতা। তবে, ৩০ গজ দূরের সেই বাইসাইকেল কিক, মাঠের আগ্রাসী রূপ, এই ইব্রাকে ভোলা যাবে না।


একাত্তর/এআর