২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের মহাযুদ্ধ শুরু হতে না হতেই মাঠের ফুটবল ছাপিয়ে রেফারিং বিতর্ক এখন ‘টক অব দ্য টুর্নামেন্টে’ পরিণত হয়েছে। বিতর্কিত সব সিদ্ধান্তের জেরে যখন চারদিকে সমালোচনার ঝড়, ঠিক তখনই ফুটবল দুনিয়ার অন্যতম স্পষ্টভাষী, ঠোঁটকাটা ও ক্যারিশম্যাটিক চরিত্র স্লাতান ইব্রাহিমোভিচ তাঁর স্বভাবসুলভ ‘সসি’ মন্তব্য নিয়ে হাজির হলেন।
শেষ ষোলোএ ম্যাচে মিশরের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার রোমাঞ্চকর জয়ের পর আলবিসেলেস্তেদের দিকে ধেয়ে আসা সমালোচনার তীরে নিজের বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছেন এই সুইডিশ কিংবদন্তি। তাঁর দাবি, এই সমালোচনা আসলে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি মেসির বিরুদ্ধে এক সুপরিকল্পিত হিংসা!

এসেন্সিয়ালি স্পোর্টসের বরাত দিয়ে ইব্রাহিমোভিচ সোজা জানিয়েছেন, আজ আমি আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত, আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের পর যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, তা আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ছিল না; ওটা ছিল সুনির্দিষ্টভাবে মেসির ওপর হামলা।
এসি মিলানের সাবেক এই স্ট্রাইকারের মতে, রেফারিংয়ের ভুলত্রুটি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন আর মাঠের লড়াইয়ের স্বচ্ছতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ফুটবল বিশ্বের একটা বড় অংশ সুযোগ পেলেই মেসির এত বছরের গৌরবময় ঐতিহ্য আর অর্জনকে খাটো করার জন্য ওত পেতে থাকে।
ফুটবল বোদ্ধা ও সমর্থকদের এই দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করে ইব্রাহিমোভিচ বলেন, অন্য বড় ম্যাচগুলোতে একই রকম ভুল হলে সবাই চুপ থাকে, কিন্তু কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত মেসি বা আর্জেন্টিনার পক্ষে গেলেই শোরগোলের মাত্রা অন্য লেভেলে পৌঁছে যায়।

নিজের যুক্তির সপক্ষে প্রমাণ দিতে গিয়ে ইব্রাহিমোভিচ কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিরুদ্ধে ফ্রান্সের সদ্য সমাপ্ত ম্যাচের একটি বিতর্কিত ঘটনার দিকে আঙুল তুলেছেন, যা কিলিয়ান এমবাপ্পের প্রথম গোলের ঠিক আগে ঘটেছিল। সুইডিশ এই কিংবদন্তির দাবি, ফরাসিদের সেই গোলটি হ্যান্ডবলের কারণে সম্পূর্ণ অবৈধ ছিল এবং তা বাতিল করা উচিত ছিল।
ইব্রাহিমোভিচ সরাসরি বোমা ফাটিয়ে বলেন, আমরা এমবাপের গোলের ঠিক আগে খুব স্পষ্ট একটি হ্যান্ডবল দেখেছি। গোলটি নিশ্চিতভাবে বাতিল হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তা বহাল রাখা হলো।
ঘটনাটি ঘটেছিল ফরাসি মিডফিল্ডার আদ্রিয়েন রাবিওকে কেন্দ্র করে। তাঁর সেই কথিত হ্যান্ডবলের পর মরক্কোর ডাগআউট থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি তা খতিয়ে দেখেও সিদ্ধান্ত বদলায়নি।
এই ঘটনার পর যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিফা মেসিকে কাপ পাইয়ে দেওয়ার জন্য পক্ষপাতিত্ব করছে বলে গলা ফাটাচ্ছিল, তাদের এক হাত নিয়েছেন স্লাতান। সমালোচকদের তীব্র খোঁচা দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আজ সেই মানুষগুলো কোথায়, যারা দাবি করেছিল মেসিকে ফিফা অন্ধের মতো সমর্থন দিচ্ছে? তারা তো এখন পুরোপুরি ভোজবাজির মতো উধাও হয়ে গেছে!

তবে শুধু ফিফা বা রেফারিং নিয়ে কথা বলেই ক্ষান্ত হননি ইব্রাহিমোভিচ; বিতর্কের বারুদে আসল ঘি ঢেলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সমর্থকদের সরাসরি আক্রমণ করে। স্বভাবসুলভ চনমনে মেজাজে স্লাতান বলেন, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ফ্যান বেস আসলে অত্যন্ত ইমোশনাল এবং তারা কোনোভাবেই মেসির এই অবিশ্বাস্য সাফল্য আর আধিপত্য মেনে নিতে পারছে না।
ইব্রাহিমোভিচের এই একটি মন্তব্য বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে এবং মেসি-রোনালদোর সেই চিরন্তন দ্বৈরথকে আবারও সোশ্যাল মিডিয়া ও ফুটবল পণ্ডিতদের মাঝে নতুন করে উস্কে দিয়েছে। আগামী রোববার সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের আগে মাঠের বাইরের এই বিতর্ক থ্রি-লায়ন্স বা আলবিসেলেস্তে শিবিরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে কিনা, নাকি মেসি তাঁর নিজের জাদুতেই সব সমালোচনার জবাব দেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়!
