ঝরে গেলো দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক সূর্যসন্তান। না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের বর্ষীয়ান সংগঠক কাজী শাহেদ আহমেদ।
ঢাকা আবাহনীর এই সাবেক ডিরেক্টর ইনচার্জ ও মিডিয়া উদ্যোক্তার ছিলো বর্ণাঢ্য জীবন। আবাহনী ক্লাব প্রাঙ্গনে শেষবারের মতো তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ক্রীড়াঙ্গনের মানুষেরা। রাজধানীর একটি হাসপাতালে সোমবার সন্ধ্যায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মঙ্গলবার ধানমন্ডি ৭ নম্বর সড়কের বায়তুল আমান মসজিদে কাজী শাহেদ আহমেদের প্রথম জানাজা হবার পর তাঁর মরদেহ শেষবারের মতো নিয়ে আসা হয় প্রিয় ক্লাব আবাহনীর প্রাঙ্গণে। জীবন তাকে ছুটি দিয়েছে। মুক্তচিন্তা, বুদ্ধি ও প্রগতিশীলতার অনন্য ভাবনার সাথে খেলাধুলা সমাজ পরিবর্তনে যিনি রেখে গেছেন অসংখ্য উদাহরন। দেশের বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠকদের মধ্যে তিনি অন্যতম।
১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে শেখ কামালের হাতে গড়া ক্লাব আবাহনীকে ধ্বংসের চেষ্টা চলেছে তখনই কাজী শাহেদ আহমেদ ক্লাবের হাল ধরেছেন। বাধা বিপত্তির মধ্য দিয়ে পাড়ি দিয়েছেন অনেকটা পথ। আবাহনীর পুনর্গঠনে সেই সময়ে তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা আর আর্থিক সহযোগিতার কারণে আজও ক্লাবটা এগিয়ে যাচ্ছে সগৌরবে।
আধুনিক সংবাদপত্র নির্মাণের পথপ্রদর্শক কাজী শাহেদ আহমেদ। একটা সময় তার হাত ধরেই সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পায় মুক্তিযুদের চেতনা। খুলনা-যশোর-ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগে তার গড়া প্রতিষ্ঠান জেমকন গ্রুপের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে অসংখ্য মানুষের।
শত ব্যস্ততার মাঝেও মনে প্রাণে ধারণ করতেন খেলাধুলাকে। ক্রিকেট কিংবা ফুটবল একটা সময় গড়েছেন সংগঠক হয়ে পরে দায়িত্ব পালন করেছেন অভিভাবকের। তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে দুই হাত এক হয়েছে সবার। যতদিন বেঁচে ছিলন ভেবেছেন সাধারন মানুষের কথা।
কাজী শাহেদ ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব), কাজী শাহেদ ফাউন্ডেশনসহ আরো কয়েকটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা তিনি। আক্ষেপ, অপূর্ণতা বলে যদি এই ত্রিভুবনে সেই সব কিছু পূর্ণ করার জন্য সন্তানদের বড় করেছেন সেভাবেই।
বাংলার জমিতে বর্ষার ভ্রমণ। চারিদিক রিক্ত হয়েছে বৃষ্টির মূর্ছনায়। এমন দিনেই কাজী শাহেদ আহমেদকে শেষ বিদায় জানালো বাংলার ক্রীড়াঙ্গন। মঙ্গলবার বাদ আসর গুলশান কেন্দ্রীয় মসজিদে তৃতীয় ও শেষ জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় কাজী শাহেদ আহমেদের তিন ছেলেসহ আত্মীয়-স্বজন এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।