চ্যাম্পিয়ন হলে কত টাকা পাবে রোহিতরা?

ভারতের আহমেদাবাদে নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের গ্যালারি নীল রঙ ধারণ করেছে। প্রিয় দলের জার্সি গায়ে গ্যালারিতে হাজির হয়েছেন প্রায় সোয়া লাখ দর্শক। ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টসে হেরে আগে ব্যাটিং করছে ভারত। কানফাটা চিৎকারে টিম ইন্ডিয়াকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে দর্শকরা।

ভারতীয় দল ও দর্শকদের একটাই লক্ষ্য, নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করা। তৃতীয়বারের মতো ট্রফিটা নিজেদের করে পেতে চায় রোহিতরা। যদি শেষ পর্যন্ত অষ্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জয় করতেই পারে টিম ইন্ডিয়া, তাহলে শুধু ট্রফিই নয়, জিতবে কোটি কোটি টাকার পুরস্কারও। 

৪০ বছর আগে কপিল দেব এন্ড কোং বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যে এক লক্ষ টাকা পুরস্কার পেয়েছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে। এছাড়াও পেয়েছিলেন একটি করে স্বর্ণের চেন। এই টাকা এবং চেনের জোগাড় করতে বোর্ডকে যেতে হয়েছিলো তারকা গায়িকা লতা মঙ্গেসকারের কাছে। 

তিনি সেই অনুরোধ ফিরিয়ে দিতে পারেননি। দিল্লিতে ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে কনসার্ট করে টাকাটা তোলে তখন দারুণ আর্থিক কষ্টে থাকা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ক্রিকেটাররা ইংল্যান্ডে দৈনিক পঞ্চাশ পাউন্ড করে পেতেন নিজেদের লাঞ্চ, ডিনার এবং ব্রেকফাস্টের জন্যে। এরমধ্যে ছিলো লন্ড্রি খরচও। 

এসবের বাইরে বিশ্বসেরা হবার জন্য ১৫ হাজার টাকা বোনাস পেয়েছিলেন কপিলরা। সেসব এখন ইতিহাস। এরপর ২০১১ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে যখন ভারত দ্বিতীয়বার বিশ্বসেরার ট্রফি জেতে, তখন মোট পুরস্কার মূল্য ছিল ৬৬ কোটি টাকা। বিজয়ী ভারতীয় দল পেয়েছিল ২৫ কোটি টাকা।

শ্রীলঙ্কা রানার্স হয়ে পেয়েছিলো সাড়ে ১২ কোটি টাকা। ভারতীয় দলের প্রতিটি ক্রিকেটার বোর্ডের থেকে ২ কোটি টাকা বোনাস পেয়েছিলেন। অর্থাৎ ১৯৮৩ সালে যা ছিল ১৫ হাজার, ২৮ বছর পরে তা হয়ে যায় ২ কোটি। এবার ভারতীয় দল চ্যাম্পিয়ন হলে কত বোনাম পাবে সেটা এখন ঠিক হয়নি। 

তবে প্রাইজ মানি তো আগে থেকেই ঠিক করা আছে। এবার আইসিসির মোট পুরস্কার অর্থ ৮২.৩৫ কোটি টাকা। রোহিতরা চ্যাম্পিয়ন হলে পাবেন ৩৩.১৭ কোটি টাকা। রানার্স আপ হলে এর অর্ধেক টাকা। এছাড়া বিভিন্ন রাজ্য সরকারের দেয়া পুরস্কার তো থাকবেই। সেই সঙ্গে দিল্লি থেকেও আসতে পারে বড় ঘোষণা।