মেসিভক্ত এক চোরের গল্প

শুধু সাধারণ মানুষেরা নয়, দাগী আসামী-মাফিয়ারা মেসির বিশাল ভক্ত। স্প্যানিশ সেই মাফিয়া নেটওয়ার্কের প্রধানের বক্তব্যে উঠেছে, মেসিয়ানা। ইউরোপে এল এম টেনের বাড়িতে চুরি হওয়া ঠেকিয়ে রেখেছেন তিনি। অথচ এই একই মানুষ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ইয়োহান ক্রুইফ কিংবা সার্জিও রেমোসের বাড়িতে লুট অভিযান চালাতে গিয়ে ভাবেননি দুবার।

আসল পরিচয় জানা যায়নি, তবে নিজেই নিজের ছদ্মনাম দিয়েছেন আলবের্তো। পেশা স্প্যানিশ মাফিয়া, সুনির্দিষ্ট করে বললে চুরি করা। তবে যেই সেই চোর নয়, সেলিব্রেটি যারা তাদের বাড়ির বিলাসবহুল ঘড়ি-নগদ অর্থ-দামী সমস্ত সংগ্রহ লুট করাতে পারদর্শী, সে কারণেই অন্ধকার জগতের চোরেদের সম্রাট আলবের্তো।

স্পেনের বিখ্যাত পডকাস্ট ‘সুমেরিও এবিয়ের্তো’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাতকারে কুখ্যাত এই মাফিয়া জানিয়েছেন, তিনি আসলে ইউরোপে চোরেদের নেটওয়ার্ক করেন নিয়ন্ত্রণ। সেখানে উন্মোচন করেছেন, তার সফল টার্গেটদের তালিকা। ফুটবলারদের মধ্যে কে নেই আলবের্তোর শিকারের তালিকায়। সার্জিও রেমোস, আলভারো মোরাতো, কারিম বেনজেমা, হেরারড পিকে, দানি কারভাহাল। কখন কার বাড়িতে, কীভাবে করতে হবে হাত সাফাইয়ের কাজ-সেটারই পরিকল্পনা এবং নিয়ন্ত্রণ করেন ওপর থেকে।

আলবের্তোর গ্যাং সচরাচর একজন ফুটবলারকে অনুসরণ করে মাসের পর মাস। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টের লোকেশন, বাসার একজন ক্লিনার থেকে শুরু করে ফুটবলারদের কোন আত্মীয় বা বন্ধুকে ম্যানেজ করার চেষ্টা...যে তথ্য দেবে তার ৩০% আর বাকি ৭০% আলবের্তোর গ্যাংয়ের, মিশন সাকসেসফুল হয়নি এমন ঘটনা নেই নাকি একটাও।

২০১২ সালে বার্সেলোনার ডাচ-লেজেন্ড ইয়োহান ক্রুইফের বাড়িতে ঢু মেরে আলবের্তো গ্যাং সরিয়েছে কোটি টাকারও বেশি দামের কিছু ঘড়ি, আর নগদ বিশ হাজার ইউরো। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বাড়িতেও গেছে, তবে মূল্যবান কিছু নাকি পায়নি।

মেসি যখন কাতারের বিশ্বকাপে তখন তার বার্সেলোনার বাড়িতে চুরি করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেঅ, সেলিব্রেটিদের বাড়িতে চুরি করতে বিশেষজ্ঞ চোরদের এই নেটওয়ার্ক। তবে নিজের তো বটেই, মেসির বাড়ি হানা দিতে আগ্রহী অন্য গ্যাংগুলোকেও এমনটা করতে দিয়েছেন বাধা। জানিয়েছেন, যতদিন বেঁচে থাকবেন, ইউরোপে এল এম টেনের সমস্ত বাড়িকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা রেখে যাবেন অব্যাহত। আলবের্তো দাবি করছেন, মেসির প্রতি ভক্তি তার পেশাদারিত্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

স্প্যানিশ গণমাধ্যম এএসকে আলবের্তো বলেন, ‘যদিও চুরি করাটাই আমার পেশা। তারপরও ফুটবলকে ঘিরে আমার যে আবেগ তার সবটা জুড়ে মেসি। কসম উপরওয়ালার, বেশ কবার মেসির বাড়িতে চুরি করবার চেষ্টা আমি আটকে দিয়েছে। আমি ওকে ভীষণ শ্রদ্ধা করি। ওর বাড়িতে আমি এটা হতে দিতে পারি না।’

পেশায় দাগী মাফিয়া-চোর, নেশায় ফুটবল আর মেসি। ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়া পডকাস্টটা প্রচার হতে না হতেই সুপারহিট হয়েছে শুধু তা নয় শুধু; ফলাও করে প্রচার করেছে, এএস। ভিন্ন মহাদেশের ভিন্ন একটা দেশের আঠারো কোটি মানুষকে করে ফেলা একটা মিনি আর্জেন্টিনায়, যুদ্ধবিধস্ত সীমানায় কাপড়ের জার্সির কেনার টাকা নেই তো কি হয়েছে, পলিথিনই সই! এমনকি ক্রুইফ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ছাড় দেয় না যে সিঁধেল চোর, সেও মনে প্রাণে-ধারণকরে মানুষটাকে! সাদা-কালো, বড়-ছোট, সাধু-চোর সবাইকে এক করে ফেলে...মেসিয়ানা এমনই।