ভক্তের সঙ্গে হাতাহাতি, মুখ খুললেন রউফ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে আসরের অন্যতম ফেবারিট পাকিস্তানকে। এ নিয়ে আমেরিকাতে রীতিমতো ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের শিকার হচ্ছেন বাবর আজমরা। এমনই এক ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে পাকিস্তান দলের পেসার হারিস রউফ এক ভক্তের দিকে তেড়েফুঁড়ে যাওয়ার একটি ভিডিও এখন ভাইরাল।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হারিস রউফ ও তার স্ত্রী একটি পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন, এমন সময় একদল লোক তাদেরকে লক্ষ্য করে কিছু বলছিলো। তাদের মধ্যে কয়েকজন পাকিস্তানের জার্সি পরেছিলেন। তারপরও রউফ উত্তেজিত হয়ে বলে উঠেন, নিশ্চয়ই আপনারা ভারতীয় এবং তাদের দিকে তেড়ে যান। 

রউফকে ওই ব্যক্তির ওপর চড়াও হওয়া থেকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছিলেন স্ত্রী। পরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে থাকা বাকিরাও রউফকে এসে থামান। দুজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও বেশ উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হতেও দেখা যায় ওই ভিডিওতে। পরে রউফ বলেছেন, পরিবারকে নিয়ে কেউ কটু কথা বললে তিনি সে অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেবেন।

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের শেষ ম্যাচটির ভেন্যু ছিলো ফ্লোরিডার লডারহিলে। এক্সে এক পোস্টে সেই ঘটনা নিয়ে রউফ বলেন, সামাজিক মাধ্যমে এ ব্যাপারটি আনতে চাইনি। কিন্তু যেহেতু ভিডিও চলে এসেছে, পরিস্থিতির দিকে আলোকপাত করা দরকার বলে মনে করছি।

৩০ বছর বয়সী পেসার বলেন, পাবলিক ফিগার (তারকা) হিসেবে জনগণের সব রকম মতামতের ব্যাপারে আমরা উন্মুক্ত। আমাদের সমর্থন বা সমালোচনা করার অধিকার তাদের আছে। তবে যেটিই হোক, আমার মা–বাবা বা পরিবারের ব্যাপারে কিছু হলে আমি সে অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দেখাতে দ্বিধা করব না। মানুষ এবং তার পরিবারের প্রতি সম্মান দেখানো গুরুত্বপূর্ণ, তার পেশা যেটিই হোক না কেন।

এদিকে, মঙ্গলবার এক্সে সতীর্থ হারিস রউফের পাশে দাঁড়িয়েছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। বিবাদে জড়ানো ওই সমর্থক পাকিস্তানের হওয়ার পরও, তার পোস্টে ভারতকে টানেন তিনি। এতে চটেছেন ভারতের ক্রিকেট সমর্থকরা। নেটিজেনদের দাবি, রউফের সাথে যার হাতাহাতি হয়েছে সে নিজেই দাবি করেছেন তিনি পাকিস্তানি। ভারতের নাম এখানে আনাই উচিত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় গতবারের রানার্সআপ পাকিস্তান। এতে করে দলটি বেশ সমালোচনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য পাকিস্তানের হতাশাময় টুর্নামেন্টেও রউফ বেশ উজ্জ্বল ছিলেন। ৪ ম্যাচে ৬.৭৩ ইকোনমি রেটে বোলিং করে তিনি নেন ৭ উইকেট। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সুপার ওভারে হারের দিন মূল ম্যাচের শেষ ওভারে ১৪ রান দিয়েছিলেন হারিস রউফ।