মেসির নতুন ঠিকানা জানতে অপেক্ষা প্রায় শেষ

তাহলে কি আবারো দুই বন্ধুর দেখা হচ্ছে একই তাঁবুতে? এই মুহূর্তে বিশ্ব ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ ঠিকানা কোথায় হচ্ছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে বারবার ঘুরে ফিরে আসছে পিএসজি’র নাম। এই ক্লাবেই খেলেন ব্রাজিলের সুপারস্টার নেইমার। 

আর, নেইমারের সঙ্গে মেসির বন্ধুত্বের কথা সবার জানা। বার্সেলোনায় হয়ে খেলার সময় এই দুই তারকার মধ্যে গড়ে উঠে দারুণ এক বন্ধুত্বের সম্পর্ক। যা নিয়ে কম আলোচনা হয়নি কোপা আমেরিকার ফাইনালের আগেও। 

মেসির আর ন্যু ক্যাম্পে থাকা হচ্ছে না, এই খবর নিশ্চিত হতেই সবার আগের তার সম্ভাব্য ঠিকানা হিসাবে প্যারিসের প্রিন্সেস পার্কের কথাই বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত মেসি কোথায় যাচ্ছেন সেটি নিশ্চিত হবার জন্য আরো কিছু সময় অপেক্ষা মাত্র।

বাংলাদেশ সময়ে রোববার বিকেলে ন্যু ক্যাম্পে শেষবারের মতো দেখা যাবে মেসিকে। যেখান থেকে শুরু হয়েছিলো তার বর্ণাঢ্য ক্লাব ফুটবলের ক্যারিয়ার। শুধু তাই নয়, এই ক্লাবটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার নানা আবেগ, স্মৃতি আর ভালোবাসার। 

আরও পড়ুন: ফুটবল বিশ্বের নতুন গ্যালাকটিকোস পিএসজি

মেসি নিজেও চেয়েছিলেন ন্যু ক্যাম্পেই তার পেশাদারি ফুটবল জীবনের ইতি টানতে। এজন্য বার্সার সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি করার দ্বারপ্রান্তেই ছিলেন তিনি। কিন্তু মহামারির করাঘাতে বার্সার ব্যাংক হিসাবে টান পড়ায় শেষ মুহূর্তে ভেঙ্গে যায় সেই আলোচনা।

বার্সেলোনা এক বিবৃতিতে জানিয়ে দেয়, আর্থিক টানাপোড়েন আর কাঠামোগত বাধার কারণে মেসির সঙ্গে নতুন চুক্তি করা যাচ্ছে না। ফলে ন্যু ক্যাম্প ছেড়ে যেতে হচ্ছে মেসিকে। যদিও এই বিশ্বসেরা তারকা চেয়েছিলেন, বেশ ছাড় দিয়েও হলেও প্রিয় ক্লাবে থেকে যেতে। 

কিন্তু বার্সার অর্থনৈতিক সংকট এতোটাই প্রবল যে, সেমির নূন্যতম চাহিদা মেটাতেও পারছে না তারা। ক্লাবটির বস জোয়ান লাপোর্তা নিজেই জানিয়েছেন, দুই পক্ষের ইচ্ছা থাকার পরেও মেসির ন্যু ক্যাম্পে থাকার কোন সম্ভাবনা এখন আর জিইয়ে নেই। 

তিনি আরো জানান, যেহেতু মেসিকে নতুন ক্লাব খুঁজতে হবে এবং সেটিও একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। তাই তারা কোন আশা দিয়ে মেসিকে আটকে রাখতে চাননি। সেমিকে পছন্দের ঠিকানা খুঁজে নিতে যথেষ্ট সময় দেয়া উচিৎ আর সে কারণেই দলের সিদ্ধান্ত পাকা। 

আরও পড়ুন: আবারও অলিম্পিক আসরের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল

মেসির সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা যে পিএসজি হতে যাচ্ছে, এর পেছনে বড় কারণ হলও, দলটি বেশ কিছু বছর ধরেই মেসিকে দলে টানতে চাইছে। এর পেছনে অনুঘটক হিসাবে কাজ করেছেন নেইমার স্বয়ং। পিএসজির ইচ্ছার কথা তিনিই জানাতেন মেসিকে। 

পিএসজির কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো সরাসরি জানিয়েছেন, তিনিও মেসিকে পেতে চান। তার মানে এই নয় যে, এর বিনিময়ে কালিয়ান এমবাপ্পেকে ছেড়ে দিতে চান তিনি। সবাইকে দলে রেখেই মেসিকে নিয়েই নতুন গ্যালাকটিকা গড়তে চান তিনি।  

সেমির নতুন ঠিকানা হিসাবে নাম এসেছে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটিরও। কিন্তু পেপে গার্দিওলা জানিয়েছেন, মেসিকে দলে ভেড়ানোর কোন পরিকল্পনা আপাতত নেই। যদিও পেপের দারুণ পছন্দের মানুষ মেসি। 

তবে ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে শেষ বলে কিছু নেই। যে কোন মুহূর্তে বদলে যেতে পারে দৃশ্যপট। শেষ মুহূর্তে প্রিয় ক্লাব বার্সেলোনাতেই থেকে পারেন ফুটবলের এই মহাতারকা। এমন নাটকীয় সম্ভাবনার কথাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। সব কিছুর জন্য শুধু কিছু সময়ের অপেক্ষা।


একাত্তর/এসজে