আফ্রিকা নেশন্স কাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মোজাম্বিককে পাত্তাই দেয়নি নাইজেরিয়া। ভিক্টর ওসিমহেনের জোড়া গোলে ৪-০ ব্যবধানের বিশাল জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে তারা। সোমবার ফেজে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ওসিমহেনের মতো সাবেক আফ্রিকান বর্ষসেরা খেতাবজয়ী অ্যাডেমোলা লুকম্যান ২০ মিনিটে গোলের খাতা খোলেন। এছাড়া দলের বাকি তিনটি গোলের পেছনেও তার বিশেষ অবদান ছিলো।
ম্যাচের শুরুতে ওসিমহেনকে তার ট্রেডমার্ক মাস্ক ছাড়াই খেলতে দেখা যায়, তবে ২৫ মিনিটে নাইজেরিয়ার দ্বিতীয় গোলটি করার আগে তিনি পুনরায় মাস্কটি পরে নেন। এরপর বিরতির ঠিক পরপরই তিনি নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এবং শেষ পর্যন্ত আকোর অ্যাডামসের গোলে বড় জয় নিশ্চিত হয়।
২০১০ সালে অ্যাঙ্গোলা টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে আলজেরিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়েছিল মিশর। এরপর নকআউট পর্বে এটিই কোনো দলের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড।
বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার আক্ষেপ ঘুচাতে মরিয়া সুপার ঈগলরা শনিবার মারাকেশে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে আলজেরিয়া কঙ্গোর (ডিআরসি)।
মঙ্গলবার শেষ ষোলোর লড়াইয়ে এই দুই দল মুখোমুখি হচ্ছে। যদি কঙ্গো জয়ী হয়, তবে নাইজেরিয়ার সামনে সুযোগ আসবে গত নভেম্বরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফে পেনাল্টিতে হারের প্রতিশোধ নেয়ার।
গ্রুপ পর্বের অন্যতম সেরা তৃতীয় দল হিসেবে প্রথমবারের মতো নেশন্স কাপে নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছিল মোজাম্বিক। তবে নাইজেরিয়ার কাছে তারা কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি।
কোচ এরিক চেল তার শেষ গ্রুপ ম্যাচে উগান্ডার বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জেতা দলটিতে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছিলেন। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে গোল করা আটলান্টা ফরোয়ার্ড লুকম্যানকে আবারও একাদশে ফিরিয়ে আনা হয়।
২০২৪ সালের আফ্রিকার সেরা এই খেলোয়াড় ম্যাচের প্রথমার্ধেই দলকে লিড এনে দেন। অ্যালেক্স আইওবির পাস থেকে আকোর অ্যাডামস বক্সের বাম দিকে বল পান, আর তার পাস থেকেই চমৎকার ফিনিশিংয়ে গোল করেন লুকম্যান। এরপর ২৮ বছর বয়সী এই তারকা নিজেই কারিগর হয়ে ওঠেন; ২৫ মিনিটে তার ক্রসটি অ্যাডামসের সহায়তায় ওসিমহেনের পায়ে পৌঁছালে খুব কাছ থেকে গোল করতে ভুল করেননি তিনি।
কিছুক্ষণ পরেই গালাতাসারে স্ট্রাইকার ওসিমহেন মোজাম্বিকের উইটির সাথে সংঘর্ষে পেটে আঘাত পেলেও বড় কোনো চোট ছাড়াই খেলা চালিয়ে যান। এরপর ৪৭ মিনিটে বাম পাশ থেকে লুকম্যানের বাড়ানো নিচু বল জালে পাঠিয়ে স্কোরলাইন ৩-০ করেন ওসিমহেন, যা মোজাম্বিকের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা শেষ করে দেয়।
চলতি আসরে ওসিমহেন এনিয়ে তিনটি গোল করলেন। লুকম্যানের দাপট সেখানেই শেষ হয়নি। ম্যাচের ১৫ মিনিট বাকি থাকতে বক্সের ভেতরে তিনি আবারও অ্যাডামসকে পাস দেন এবং সেভিয়া ফরোয়ার্ড অ্যাডামস জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে বড় জয় নিশ্চিত করেন।
দিনের শুরুতে অন্য ম্যাচে, মিশর অতিরিক্ত সময়ে বেনিনকে ৩-১ গোলে হারিয়ে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছে, যেখানে তারা আইভরিকোস্ট অথবা বুরকিনা ফাসোর মুখোমুখি হবে।