আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পক্ষ থেকে তিনটি শর্ত দিয়েছে। আইসিসির পক্ষ থেকে বারবার সম্ভাব্য পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করার পরেও, পাকিস্তান এর আগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ম্যাচটি বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সোমবার এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে এনডিটিভি।
রোববার লাহোরে আইসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এই অচলবস্থা কাটাতে পিসিবি তিনটি দাবি উত্থাপন করে, এক. বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধি, দুই. টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়া হলেও অংশগ্রহণ ফি নিশ্চিত করা এবং তিন. ভবিষ্যতে কোনো আইসিসি ইভেন্টের আয়োজক হওয়ার অধিকার।
১. বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধি: বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আইসিসির কাছ থেকে বড় ধরনের আর্থিক হিস্যা দাবি করা হচ্ছে। বোর্ডের যুক্তি হলো, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিভার বিকাশ এবং জাতীয় দলের মানোন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত তহবিলের প্রয়োজন।
২. বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়লেও অংশগ্রহণ ফি: বাংলাদেশ আগেভাগে আসর থেকে ছিটকে গেলেও আইসিসির কাছে একটি নির্দিষ্ট অংশগ্রহণ ফি দাবি করা হচ্ছে। তাদের যুক্তি, দলগুলো প্রস্তুতির জন্য বিপুল বিনিয়োগ করে, তাই পারফরম্যান্স যাই হোক না কেন, তাদের একটি ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা প্রাপ্য।
৩. ভবিষ্যতে আইসিসি ইভেন্টের আয়োজক হওয়ার অধিকার: দেশের ক্রিকেট অর্থনীতি ও বৈশ্বিক পরিচিতি বাড়াতে বাংলাদেশে একটি আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ চাইছে বোর্ড। তারা বিশ্বাস করে, একটি বড় আন্তর্জাতিক আসর আয়োজন করার মতো সুযোগ-সুবিধা ও দর্শক সমর্থন এখন দেশটিতে রয়েছে।
পিসিবি’র কিছু কর্মকর্তা ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলার পক্ষে থাকলেও বোর্ড চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এ বিষয়ে এখনও অনমনীয়। চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে নাকভি সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে পরামর্শ করতে বৈঠকে বসবেন।
নিরাপদ বোধ না করার অজুহাতে ভারত সফরে অস্বীকৃতি জানানোয় গত মাসে আইসিসি বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেয়। আইসিসির পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট হুমকি নেই বলে নিশ্চয়তা দেয়া হলেও বিসিবি তাদের অবস্থানে অনড় থাকে, যার ফলে আইসিসি বাংলাদেশকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে।
পরবর্তীতে পাকিস্তান বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে। আইসিসির বৈঠকের পাশাপাশি মহসিন নাকভি ও পিসিবি কর্মকর্তারা এই সংকট নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন।
পিসিবির সুরের এই পরিবর্তন মূলত আইসিসির একটি ব্যাখ্যার দাবির পর এসেছে। আইসিসি জানতে চেয়েছিল, সরকার রাজি নয় এমন অজুহাত দেখিয়ে কীভাবে ‘ফোর্স মেজিউর’ (অপ্রতিরোধ্য পরিস্থিতি) ধারাটি এই ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে।