সেনেগালকে হারিয়ে ২৮ বছর পর নকআউটে নরওয়ে

দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে সেনেগালকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে জয় নিশ্চিত করে নরওয়ে।

ম্যাচের ৪৩ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা মার্কাস হোমগ্রেন পেডারসেন গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন। বিরতির পর মাত্র তিন মিনিটের মাথায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হালান্ড। এরপর ইসমাইলা সার এক গোল শোধ করে সেনেগালকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। তবে কিছুক্ষণ পরই নিজের দ্বিতীয় গোল করে নরওয়ের জয় প্রায় নিশ্চিত করেন হালান্ড। ইনজুরি সময়ে সারের আরেকটি গোলে ব্যবধান কমলেও পরাজয় এড়াতে পারেনি আফ্রিকান প্রতিনিধিরা।

এবারের বিশ্বকাপে দুই ম্যাচে চার গোল করে দারুণ ছন্দে রয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির তারকা হালান্ড। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৫২ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা এখন ৫৯।

বিশ্বকাপে টানা দুই জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে নরওয়ে। এই প্রথম কোনো বিশ্বকাপ আসরে পরপর দুটি ম্যাচ জিতল দলটি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ১৮ ম্যাচে মাত্র একবার হেরেছে নরওয়েজিয়ানরা।

শুরু থেকেই ম্যাচে আধিপত্য দেখায় নরওয়ে। কর্নার থেকে ক্রিস্টোফার আয়েরের হেড দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দো মেন্ডি। তবে ম্যাচের শুরুতেই চোটে পড়ে ফুল-ব্যাক জুলিয়ান রায়ারসনকে হারায় নরওয়ে।

অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও প্রথমার্ধে ব্যবধান বাড়াতে পারেননি। অন্যদিকে সেনেগালের হয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান নিকোলাস জ্যাকসন।

প্রথম গোলটি আসে সেনেগাল অধিনায়ক কালিদু কুলিবালির ভুল থেকে। বক্সের সামনে বল পেয়ে নিচু শটে মেন্ডিকে পরাস্ত করেন পেডারসেন। দ্বিতীয়ার্ধে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থেকে ওডেগার্ডের পাস পেয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হালান্ড।

৫৩ মিনিটে সাদিও মানের চমৎকার পাস থেকে সার গোল করে ব্যবধান কমান। কিন্তু কুলিবালির আরেকটি ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে হালান্ড নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। প্যাট্রিক বার্গের ক্রস ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।

শেষ দিকে সার আরেকটি গোল করে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনলেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।

দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে ইতোমধ্যেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে নরওয়ে ও ফ্রান্স। গ্রুপ ‘আই’-এর শীর্ষস্থান নির্ধারণে আগামী শুক্রবার মুখোমুখি হবে দুই দল। অন্যদিকে কোনো পয়েন্ট না পাওয়া সেনেগাল ও ইরাক নিজেদের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে টিকে থাকার লড়াইয়ে।