সুইডেনকে রুখে শেষ বত্রিশে জাপান, এবার ব্রাজিল পরীক্ষা

বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে জাপান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মঙ্গলবার সুইডেনের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে নকআউট নিশ্চিত করেছে এশিয়ার দলটি। গ্রুপ রানার্সআপ হওয়ায় শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

তিন ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এফ’-এ দ্বিতীয় হয়েছে জাপান। ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হিসেবে নকআউটে উঠেছে নেদারল্যান্ডস। অন্যদিকে, ৪ পয়েন্ট নিয়ে সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হিসেবে পরের পর্বে জায়গা পেয়েছে সুইডেনও।

ডালাসের প্রায় ৭০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে গোলশূন্য সমতা থাকলেও বিরতির পর জমে ওঠে লড়াই। ৫৬তম মিনিটে ডেইজেন মায়েদার গোলে এগিয়ে যায় জাপান। তবে মাত্র ছয় মিনিট পর এন্থনি এলাঙ্গা সমতা ফেরান সুইডেনের হয়ে।

টুর্নামেন্টের অন্যতম ডার্ক হর্স হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও একবার প্রমাণ করেছে জাপান। যদিও ম্যাচের শেষ দিকে আলেক্সান্ডার ইসাক ও এলাঙ্গা সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ফল অন্যরকমও হতে পারত।

একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে তিউনিশিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে নেদারল্যান্ডস। শেষ ৩২-এ ডাচদের প্রতিপক্ষ মরক্কো।

এবার নকআউটে জাপানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ব্রাজিল। গত অক্টোবরে ঘরের মাঠে প্রীতি ম্যাচে ৩-২ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়েছিল জাপান। সেই ম্যাচের প্রসঙ্গ টেনে কোচ হাজিমে মোরিয়াসু বলেন, ব্রাজিল হয়তো এবার প্রতিশোধের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে। তবে নিজেদের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রেখে তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে জাপানেরও পরের ধাপে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এর আগে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৫-১ গোলে হারের পর সুইডেনের কোচ গ্রাহাম পটার একাদশে পরিবর্তন আনেন। গোলরক্ষক বদলের পাশাপাশি এন্থনি এলাঙ্গাকেও শুরুর একাদশে ফেরানো হয়।

বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ গ্রুপগুলোর একটি ছিল ‘এফ’ গ্রুপ। জাপান, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেন—তিন দলই শেষ ম্যাচ পর্যন্ত নকআউটের দৌড়ে ছিল। প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ২-২ গোলে রুখে দিয়েছিল জাপান, আর সুইডেন তিউনিশিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে নিজেদের শক্তির জানান দেয়। শেষ পর্যন্ত তিউনিশিয়াই একমাত্র দল হিসেবে গ্রুপ থেকে বিদায় নেয়।

ম্যাচ শুরুর আগে জাপান ও সুইডেন—দুই দলই জানত, এক পয়েন্টই তাদের জন্য যথেষ্ট হতে পারে। সেই কারণে প্রথমার্ধে দুই দলই কিছুটা সতর্ক ফুটবল খেলেছে। বলের দখলে এগিয়ে ছিল জাপান, তবে সুইডেনের হয়ে আলেক্সান্ডার ইসাক ও ভিক্টর গিয়োকেরেস কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তোলেন। অন্যদিকে, কেইতো নাকামুরার জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন সুইডিশ গোলরক্ষক ভিদেল জেটারস্ট্রম।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি বাড়ায় জাপান। আয়ো তানাকার একটি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পর ৫৬তম মিনিটে ডেইজেন মায়েদা গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তবে সেই লিড বেশিক্ষণ টেকেনি। ছয় মিনিট পর ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন এলাঙ্গা। যোগ করা সময়ে এলাঙ্গা ও ইসাক—দুজনেরই নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট হলে ১-১ সমতাতেই শেষ হয় ম্যাচ।