দীর্ঘ ৯৮১ দিনের নির্বাসন শেষে ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমার জুনিয়রের প্রত্যাবর্তন কেবল একটি ম্যাচ খেলা ছিল না, ছিল এক অদম্য লড়াইয়ের জয়গান। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে ৭৬ মিনিটে যখন তিনি মাঠে নামলেন, তখন গ্যালারির গর্জনই বলে দিচ্ছিল কেন তাকে ব্রাজিলের ফুটবল ঈশ্বর বলা হয়। আর এই ফেরার পেছনে সবচেয়ে বড় কারিগর যদি কেউ হয়ে থাকেন, তিনি হলেন ব্রাজিলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ইতালিয়ান এই কৌশলী কোচ নেইমারের মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তার ‘অসাধারণ পেশাদারিত্ব’ ও কঠোর পরিশ্রমকে।
২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে এসিএল পেশীর ইনজুরিতে পড়ার পর থেকেই নেইমারের ক্যারিয়ারের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। অনেকবার ফেরার চেষ্টা করেও শতভাগ ফিট না থাকায় আনচেলত্তির কঠিন নিয়মের বেড়াজালে তাকে মাঠের বাইরেই থাকতে হয়েছে। তবে হাল ছাড়েননি নেইমার। আনচেলত্তি নিজেই জানিয়েছেন, মার্চের প্রীতি ম্যাচে ফিটনেসের অভাবে নেইমারকে দলে না রাখলেও, এই কদিন তিনি যেভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আনচেলত্তি গর্বের সঙ্গে বলেন, সে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছে কারণ সে এটি অর্জন করেছে। তার কঠোর পরিশ্রম এবং পেশাদারিত্বই তাকে আবারও এই মঞ্চে ফিরিয়ে এনেছে।

ইনজুরির কারণে প্রথম দুটি ম্যাচ খেলতে না পারা নেইমারের কাছে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত বিশেষ। দীর্ঘ সময় দলের বাইরে থাকা, নিজের অস্তিত্ব নিয়ে লড়াই—সব মিলিয়ে মাঠে নামার পর তিনি হয়ে পড়েছিলেন আবেগপ্রবণ। আনচেলত্তি শুধু একজন কোচ হিসেবে নয়, একজন অভিভাবক হিসেবেও নেইমারের এই ফেরার মুহূর্তটিকে উদযাপন করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, মাঠের নৈপুণ্যের চেয়েও জরুরি হলো খেলোয়াড়ের দায়িত্ববোধ, যা নেইমার সাম্প্রতিক সময়ে অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন।
স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে ব্রাজিল এখন গ্রুপ সেরা হিসেবে নকআউট পর্বে। নেইমারের এই ফেরার পর এখন পুরো দলের লক্ষ্য ষষ্ঠ শিরোপার দিকে। হিউস্টনে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ কারা হবে, তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। নেদারল্যান্ডস, সুইডেন কিংবা জাপান, যেই আসুক না কেন, নেইমারের মতো একজন অভিজ্ঞ সেনানী দলে ফিরে আসায় সেলেসাওদের আক্রমণভাগ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ধারালো।
ফুটবল প্রেমীদের জন্য এর চেয়ে বড় সুখবর আর কী হতে পারে? এক সময়ের চোটজর্জর নেইমার আজ আনচেলত্তির আস্থার প্রতিদান দিয়ে ফিরে এসেছেন জাদুকরের বেশে। এখন দেখার অপেক্ষা, নকআউটের কঠিন পরীক্ষায় এই নতুন ব্রাজিল কতটা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে পারে! তবে এটুকু নিশ্চিত, নেইমার কেবল ফিরে আসেননি, তিনি ফিরে এসেছেন এক নতুন প্রতিজ্ঞা আর দায়িত্ববোধ নিয়ে, যা ব্রাজিলকে নিয়ে যাবে স্বপ্নপূরণের দ্বারপ্রান্তে।
মাঠে নামার আগে খুব নার্ভাস ছিলাম: নেইমার