তিউনিশিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ‘এফ’-এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে নেদারল্যান্ডস। তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে নকআউটে ওঠা ডাচরা শেষ ৩২-এ মুখোমুখি হবে মরক্কোর।
কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় রোনাল্ড কোম্যানের দল। সপ্তম মিনিটের মধ্যেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা। তৃতীয় মিনিটে ডেনজেল ডামফ্রাইসের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে আত্মঘাতী গোল করেন তিউনিশিয়ার এলিয়েস শিকিরি। মাত্র চার মিনিট পর ব্রায়ান ব্রবেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
দ্রুত দুই গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় নেদারল্যান্ডস। গ্যালারিতে থাকা কমলা রঙে সেজে ওঠা ডাচ সমর্থকেরাও তখন উৎসবে মেতে ওঠেন।
দ্বিতীয়ার্ধে তিউনিশিয়া কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। ৫৪তম মিনিটে হানিবাল মেজব্রির কর্নার থেকে হাজেম মাস্তোরি হেডে একটি গোল শোধ দেন। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কয়েক মিনিট পর টিজানি রেইন্ডার্সের কর্নার থেকে ইয়ান পল ভ্যান হেকের হেড প্রতিপক্ষের একজনের গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে গেলে আবারও দুই গোলের ব্যবধান ফিরে পায় ডাচরা।
ম্যাচ শেষে নেদারল্যান্ডস কোচ রোনাল্ড কোম্যান বলেন, এখন তাদের পুরো মনোযোগ মরক্কোর বিপক্ষে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে। তার মতে, মরক্কো মানসম্পন্ন খেলোয়াড়ে ভরপুর একটি দল এবং তাদের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে।
ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে বজ্রঝড়ের আশঙ্কা থাকলেও নির্ধারিত সময়েই খেলা শুরু হয়। যদিও শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল তিউনিশিয়া। ইসমাইল ঘারবির কাছ থেকে পাওয়া সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেনি দলটি; তার শট অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
অন্যদিকে, ব্রবের গোলটি ছিল এবারের বিশ্বকাপে তার তৃতীয়। ভার্জিল ফন ডাইকের নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে সুযোগ তৈরি হলে কাছ থেকে জোরালো শটে বল জালে পাঠান তিনি।
এই হারে হতাশাজনকভাবে বিশ্বকাপ শেষ হলো তিউনিশিয়ার। তিন ম্যাচে তারা ১২ গোল হজম করে বিদায় নিল।
দলের প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে বড় ব্যবধানে হারের পর কোচ সাবরি লামুচিকে বরখাস্ত করা হয়। তার পরিবর্তে দায়িত্ব পান অভিজ্ঞ ফরাসি কোচ হার্ভে রেনার্ড। কিন্তু কোচ বদলেও ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। বাছাইপর্বে কোনো গোল না খেয়ে বিশ্বকাপে ওঠা তিউনিশিয়া মূল পর্বে প্রথমে জাপানের কাছে ৪-০ এবং পরে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৩-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শেষ করে।
ম্যাচ শেষে রেনার্ড স্বীকার করেন, বিশ্বকাপের উচ্চমানের ফুটবলের সঙ্গে তার দল তাল মেলাতে পারেনি। তিনি বলেন, এই টুর্নামেন্ট থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করা এখন তিউনিশিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।